টাকার টোপ ও এজেন্সির ভয়ে সাংসদ কেনাবেচা, কড়া পদক্ষেপ অভিষেকের! – এবেলা

টাকার টোপ ও এজেন্সির ভয়ে সাংসদ কেনাবেচা, কড়া পদক্ষেপ অভিষেকের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন আছড়ে পড়ল সংসদে। দলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে শুক্রবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকারের কাছে ২০টি পৃথক পদচ্যুতির আবেদন জমা দিয়ে সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে ঘাসফুল শিবির।

অচেনা দলে যোগদান ও আইনি লড়াই

বিদ্রোহী সাংসদরা দাবি করেছেন যে, তাঁরা ‘ন্যাশনালাইজড সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই) নামক একটি অপরিচিত দলের সঙ্গে মিশে গেছেন এবং লোকসভায় তাঁদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। এর তীব্র বিরোধিতা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দাবি জানিয়েছেন। দলের সাংসদ কীর্তি আজাদ ও সাগরিকা ঘোষের যুক্তি, বর্তমান আইনে কোনো দলের ভেতরে ‘বিভাজন’ বা স্প্লিটের আইনি স্বীকৃতি নেই। প্রতীক বদলে অন্য দলে যেতে হলে ওই সাংসদদের আগে ইস্তফা দেওয়া উচিত বলে স্পষ্ট জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

এজেন্সির ভয় এবং বঙ্গ রাজনীতির ভবিষ্যৎ

বিদ্রোহী সাংসদদের এই পদক্ষেপকে গণতন্ত্র ও সংবিধানের অবমাননা বলে আখ্যা দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ভাঙার কৌশলের অনুকরণেই ইডি-সিবিআইয়ের ভয় দেখিয়ে এবং কোটি কোটি টাকার টোপ দিয়ে সাংসদদের কেনাবেচা করা হয়েছে। এই ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের অপ্রত্যাশিত ব্যর্থতাকেই দায়ী করা হচ্ছে।

এর প্রভাব ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপকভাবে পড়েছে। বিধানসভায় তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৪ জন দল ভেঙে বেরিয়ে এসে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করেছেন এবং তাঁদের বিরোধী দলনেতাও নির্বাচিত হয়েছে, যা নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে মূল দল। লোকসভাতেও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো সাংসদরা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে। আগামী জুলাই মাসে সংসদের বাদল অধিবেশনের আগেই স্পিকার ওম বিড়লা এই ২০ জন সাংসদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারেন, যার ওপর জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *