টাকা তোলার নয়া ‘মডিউল’! এটিএম ও চেকে কোটি কোটি টাকা পাচার, পুলিশি জালে বড় মাথার দল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সাইবার অপরাধের চেনা ছক বদলাচ্ছে প্রতারকরা! পাটনা থেকে ধরা পড়া এক আন্তঃরাজ্য চক্রের নয়া মডিউল দেখে তাজ্জব বনে গেছেন তদন্তকারীরা। এতদিন ওটিপি (OTP) জালিয়াতি, ভুয়া ফোন কল বা মোবাইল হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটলেও, এবার সামনে এল এক সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল।
পটনার অগমকুয়া এলাকায় সক্রিয় এই বিশাল জালিয়াতি চক্রের মূল চালিকাশক্তি রাহুল কুমারকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই উঠে এসেছে চোখ ছানাবড়া করা সব তথ্য। এই চক্রের মূল কাজ ছিল—দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া কালো টাকা নিরাপদভাবে এটিএম এবং চেকের মাধ্যমে ক্যাশ করিয়ে নেওয়া।
কমিশন ভাগাভাগি ও বেতনের নিখুঁত নেটওয়ার্ক
তদন্তে জানা গিয়েছে, এটি একটি বহুতল কর্পোরেট কাঠামোর মতো পরিচালিত হতো। প্রতারণার অর্থ তোলা থেকে শুরু করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট জোগাড় এবং নিরাপদ আস্তানার বন্দোবস্ত—সব কিছুর জন্যই আলাদা আলাদা লোক নিযুক্ত ছিল:
- রাহুল কুমার (মাস্টারমাইন্ড): উত্তোলিত মোট অর্থের ২০% কমিশন রেখে বাকি টাকা ঝাড়খণ্ডের জামতাড়ার দুই কুখ্যাত হ্যান্ডলার—জুবার ও আলতাফুলের কাছে পাঠাত।
- কানহাইয়া কুমার: ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জোগাড় ও টাকা তোলার বিনিময়ে পেত ৫% কমিশন।
- রাজু কুমার (জাহানাবাদ): পেত ৩% কমিশন।
- কুলদীপ সিং (দিল্লি): গ্যাংয়ের জন্য নিরাপদ ফ্ল্যাট ও আস্তানার ব্যবস্থা করার বদলে পেত ২.৫% অংশ।
ফিক্সড বেতনে চাকরি ও সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলার ছক
এই চক্রের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো—এখানে কমিশন ছাড়াও বহু যুবককে নির্দিষ্ট মাসিক বেতনে নিয়োগ করা হয়েছিল! লখনউয়ের শিশু পাল সিং, কলকাতার রাহুল হেলা ও সাদিক আলম, শেখপুরার ধনরাজ কুমার এবং পাটনার বিষ্ণু কুমারকে প্রতি মাসে ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা বেতন দেওয়া হতো। এদের মূল কাজ ছিল বিভিন্ন ব্যাংকের পাসবুক ও চেকবুক সংগ্রহ করা, এটিএম থেকে ক্যাশ তোলা এবং সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলা।
সাধারণ ও অসচ্ছল মানুষকে মাত্র ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকার লোভ দেখিয়ে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ব্যাংক কিট (ডেবিট কার্ড, চেকবুক, সিম কার্ড) হাতিয়ে নেওয়া হতো। এমনকি আধার কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য ব্যক্তিপিছু ১,৫০০ টাকা এবং মোবাইল নম্বর আপডেটের জন্য ৩০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করত এই চক্র।
বর্তমানে পুলিশ এই আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাজ্য সাইবার চক্রের শিকড় আর কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত চালাচ্ছ।
