টিকিটের দাম ৫০ লাখ! আইপ্যাক ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে বোমা ফাটালেন বহিষ্কৃত রিজু – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ছয় বছরের জন্য বহিষ্কৃত হওয়ার পরেই শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে নামলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মুখপাত্র রিজু দত্ত। দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির ডাক উপেক্ষা করে তিনি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ তুলেছেন, তা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তিকর। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনের টিকিটের বিনিময়ে ৫০ লক্ষ টাকা দাবির অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
দুর্নীতির পাহাড় ও নিচুতলার ক্ষোভ
রিজু দত্তর অভিযোগের তির মূলত দলের স্থানীয় নেতৃত্ব এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা আইপ্যাক-এর দিকে। তাঁর দাবি, পঞ্চায়েত ও পুরসভা স্তরে সাধারণ মানুষকে প্রতিটি পদক্ষেপে হেনস্থা হতে হচ্ছে। এমনকি বাড়ির নকশা অনুমোদন বা বাথরুমে কমোড বসানোর মতো নগণ্য কাজের জন্যও নেতাদের টাকা দিতে হয়। সবথেকে বড় বিস্ফোরণটি ঘটেছে টিকিটের দরদাম নিয়ে; রিজুর দাবি, তাঁর কাছে বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড়ানোর বিনিময়ে ৫০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল। এই অভিযোগ সত্য হলে তা দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে।
নারী সুরক্ষা ও রাজনৈতিক সমীকরণ
আর জি কর এবং সন্দেশখালির মতো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নারী সুরক্ষা নিয়ে দলের অবস্থানকে কাঠগড়ায় তুলেছেন এই বহিষ্কৃত নেতা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে নারীর সম্মান কেনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করে তিনি প্রকারান্তরে সরকারি প্রকল্পের সীমাবদ্ধতাকেই তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি, টিভি বিতর্কে দলের হয়ে ‘মিথ্যা’ বলার আক্ষেপ এবং বিরোধী নেতাদের ব্যক্তিগত সহায়তার প্রশংসা তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
রিজু দত্তর এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে যেমন প্রকাশ্যে এনেছে, তেমনি জনমানসে স্থানীয় নেতাদের ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের অভিযোগ আগামী দিনে শাসক দলের ভোটব্যাঙ্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
