টেনেটুনে পাশ করেও ইনকাম ট্যাক্স অফিসার! হরিওমের এই লড়াই হার মানাবে বড় বড় স্বপ্নকেও!

ব্যর্থতার গ্লানি মুছে সাফল্যের শীর্ষে উত্তরপ্রদেশের হরিওম, জেদ ও কঠোর পরিশ্রমে ইনকাম ট্যাক্স অফিসার
সফলতা এমনিতে ধরা দেয় না। তার জন্য প্রয়োজন অদম্য জেদ এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার মানসিকতা। উত্তর প্রদেশের ললিতপুরের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে হরিওম শরণ বন্দলে আবারও প্রমাণ করলেন যে, মানুষের ইচ্ছাশক্তির চেয়ে বড় কোনো বাধা হতে পারে না। একসময় যে মানুষটিকে ঘিরে পরিবারের বাইরেও আত্মীয়-পরিজনদের মনে সংশয় ছিল, আজ তিনিই সাফল্যের রোল মডেল।
স্কুল জীবনের ব্যর্থতা ও চারপাশের নেতিবাচকতা
হরিওমের শিক্ষাজীবনের শুরুটা মসৃণ ছিল না। মাধ্যমিক পরীক্ষায় গণিতে মাত্র ২৪ নম্বর পেয়ে অকৃতকার্য হতে হতে বেঁচে যান তিনি। দশম শ্রেণিতে ৭০ শতাংশ এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ৬৪ শতাংশ নম্বর পাওয়ায় অনেকেই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ ছিলেন। সেই সময় চারপাশের মানুষের উপহাস আর কটাক্ষ তাঁকে মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু এই নেতিবাচক মন্তব্যই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় মোটিভেশন হয়ে দাঁড়ায়। তিনি স্থির করেন, নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেবেন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই।
কৃষিকাজ ও পড়াশোনার সমান্তরাল পথচলা
কলেজে বি.এসসি পড়ার সময় হরিওমের বাবার পরামর্শে তিনি সরকারি চাকরির প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত নেন। একদিকে পরিবারের চাষের কাজে সাহায্য করা, অন্যদিকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কঠিন সিলেবাস—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখাই ছিল তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মাঝেও তিনি অটুট ছিলেন লক্ষ্যে। পরবর্তীতে আরও উন্নত প্রস্তুতির জন্য বোনের বাড়িতে থেকে টানা তিন বছর নিবিড় পড়াশোনা করেন তিনি।
অবিরত লড়াই ও সাফল্যের স্বাদ
সফলতা আসার আগে তাঁকে একাধিক ব্যর্থতার মুখ দেখতে হয়েছে। ২০২২ সালে প্রিলিমসে কম নম্বর পাওয়া এবং ২০২৩ সালের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়ার পরেও তিনি ধৈর্য হারাননি। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে আরও শাণিত করেছেন। অবশেষে ২০২৪ সালে তাঁর পরিশ্রমের চূড়ান্ত ফসল আসে। এসএসসি সিজিএল পরীক্ষায় অসাধারণ ফল করে তিনি সর্বভারতীয় স্তরে ১৮২ র্যাঙ্ক অর্জন করেন। প্রিলিমসে ১৬৫ এবং মেইনসে ৩৩৫ নম্বর পেয়ে তিনি ইনকাম ট্যাক্স অফিসার হিসেবে যোগ দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।
হরিওম শরণের যাত্রাপথ: এক ঝলকে
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে মাঝারি মানের ফলাফল সত্ত্বেও দমে যাননি হরিওম।
- প্রাথমিক বাধা: গণিতে কাঁচা হওয়া এবং চারপাশের মানুষের উপহাস ছিল তাঁর সাফল্যের পথে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
- জীবনসংগ্রাম: চাষের কাজ ও পড়াশোনা একসাথে সামলে এগিয়ে গেছেন তরুণ এই অফিসার।
- সাফল্যের চাবিকাঠি: তিন বছরের দীর্ঘ প্রস্তুতি এবং বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরেও হাল না ছাড়ার মানসিকতা।
- বর্তমান পরিচয়: ২০২৪ সালের এসএসসি সিজিএল পরীক্ষায় সফল হয়ে তিনি এখন ইনকাম ট্যাক্স অফিসার।
