টোটো অতীত, রাস্তায় আসছে ই-রিকশা! বেকারদের জন্য পরিবহনমন্ত্রীর মেগা ধামাকা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: রাজ্যের রাস্তায় টোটোর বাড়বাড়ন্ত রুখতে এবং কেন্দ্রীয় পরিবহন আইনকে প্রাধান্য দিতে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। এবার টোটোর পরিবর্তে সম্পূর্ণ আইনি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ‘ই-রিকশা’ চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ব্যারাকপুরের এক অনুষ্ঠানে সম্প্রতি এই বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং।
পরিবহনমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বর্তমানে রাস্তায় চলাচলকারী টোটো নীতিগতভাবে অবৈধ, কারণ এর কোনো সঠিক রেজিস্ট্রেশন বা কেন্দ্রীয় আইনি ভিত্তি নেই। বিভিন্ন পুরসভা থেকে যেসব টোটো রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে, আইনত সেগুলোরও কোনো বৈধতা নেই।
ই-রিকশায় রূপান্তর ও নতুন নিয়ম
- টোটো থেকে ই-রিকশা: বর্তমান টোটো মালিকদের ধীরে ধীরে ই-রিকশায় রূপান্তরের সুযোগ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে আসল টোটো মালিক এবং প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেবে পরিবহন দপ্তর।
- নির্দিষ্ট রুট ও পারমিট: ই-রিকশা যাতে যেখানে-সেখানে ভিড় না বাড়াতে পারে, তার জন্য নির্দিষ্ট রুটে সীমিত সংখ্যক পারমিট দেওয়া হবে।
- প্রধান সড়কে নিষেধাজ্ঞা: জাতীয় ও রাজ্য সড়ক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দ্রুতগতির রাস্তায় ই-রিকশা বা টোটো চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
আইনি কড়াকড়ি: পরিবহন দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী (কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রকের G.S.R. 709(E) বিধি), ই-রিকশার মূল উদ্দেশ্য হলো ‘লাস্ট-মাইল কানেক্টিভিটি’ বা স্থানীয় এলাকা পর্যন্ত যোগাযোগ রাখা। তাই মূল সড়কে নিয়ম ভাঙলে পুলিশকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুসংবাদ
টোটো নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ির পাশাপাশি কম শিক্ষাগত যোগ্যতার বেকার যুবকদের বিকল্প আয়ের পথ দেখাতে বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা করেছেন পরিবহনমন্ত্রী। প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ১০০টি অটোরিকশা এবং ১০০টি টাটা ম্যাজিকের নতুন পারমিট দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যা পরিবহন খাতে হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
