ট্রাম্পের ওপর বাড়ছে চাপ, রাশিয়ার সমর্থনে পারমাণবিক শক্তিতে নতুন মোড় ইরান!

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে রাশিয়ার সমর্থন, চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। শান্তিপূর্ণ কাজে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা প্রতিটি দেশের অধিকার—এই দাবিকে সামনে রেখে এবার ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। বেইজিংয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এই অবস্থান স্পষ্ট করার পর আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ আরও বাড়ল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাশিয়ার অবস্থান ও প্রভাব

রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বেইজিংয়ে জানিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার প্রেক্ষিতে ইরান যদি তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করে কিংবা নিজ অধিকারের স্বপক্ষে অটল থাকে, উভয় ক্ষেত্রেই মস্কো তেহরানের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাবে। লাভরভের মতে, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকার ইরানের রয়েছে। এই নীতির ভিত্তিতে ইরান যে পথই বেছে নিক না কেন, রাশিয়া তাদের পাশে থাকবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য যে কোনো আলোচনা প্রক্রিয়াকেও রাশিয়া ও চীন স্বাগত জানায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আমেরিকা ও ইরানের বিদ্যমান টানাপড়েন

দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। উভয় দেশের মধ্যে বেশ কয়েকবার আলোচনা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান উঠে আসেনি। সাম্প্রতিক ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনার ব্যর্থতার প্রধান কারণও ছিল ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিষয়টিতে আমেরিকার অনীহা। মার্কিন উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেছিলেন যে, ইরান ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন কোনো জোরালো ও বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা তাদের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি। ভ্যান্সের অভিযোগ, ইরানকে আমেরিকার অবস্থান পরিষ্কারভাবে জানানো হলেও তারা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিশ্লেষণ: বড় শক্তির লড়াইয়ে কোন পথে মধ্যপ্রাচ্য?

রাশিয়ার এই প্রকাশ্য সমর্থন এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা রুখতে বিশ্বনেতারা চাপের মুখে রয়েছেন। আমেরিকার কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অনমনীয় মনোভাবের মুখে দাঁড়িয়ে রাশিয়া ও চীনের এই অবস্থান ইরানকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মস্কোর এই সমর্থনের ফলে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে, যা সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

এক ঝলকে

  • ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে ইরানের অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া।
  • রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, তেহরানের যে কোনো সিদ্ধান্তকে মস্কো সমর্থন জানাবে।
  • ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক বিরোধ চলছে।
  • ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি বৈঠকে সমঝোতা না হওয়ার নেপথ্যে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবিশ্বস্ততা ও ইরানের কঠোর অবস্থান।
  • রাশিয়ার এই নতুন অবস্থানে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বেড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *