ট্রাম্পের বারণ উপেক্ষা করে ইরানে হামলা নেতানিয়াহুর! প্রশ্নের মুখে আমেরিকা-ইজ়রায়েল মিত্রতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সতর্কবার্তা সত্ত্বেও ইরানে বড়সড় সামরিক হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল। ট্রাম্পের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল সংযত থাকার, কিন্তু ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সেই বারণ উপেক্ষা করায় দুই মিত্র দেশের মজবুত সম্পর্কে ফাটল প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই ধরনের হঠকারী পদক্ষেপ নিলে ইজ়রায়েলকে আগামী দিনে একাই লড়তে হবে।
সংঘাতের সূত্রপাত ও ইরানের পাল্টা জবাব
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় হেজ়বোল্লার শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দাহিয়েহ অঞ্চলে ইজ়রায়েলের এয়ার স্ট্রাইককে কেন্দ্র করে। ওই হামলার পরই তেহরান কড়া প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেয়। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইজ়রায়েলের হাইফা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। যদিও ইজ়রায়েলের শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম আকাশেই সেই মিসাইল নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
ট্রাম্পের ক্ষোভ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ
ইরানের ওই হামলার পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আসরে নামেন ট্রাম্প। তিনি নেতানিয়াহুকে ফোন করে জানান, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং এই মুহূর্তে কোনো আক্রমণ সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে পুরোপুরি ভেস্তে দিতে পারে। কিন্তু ট্রাম্পের সেই কথা কানে তোলেননি নেতানিয়াহু। ইজ়রায়েলি এয়ার ফোর্স একযোগে পশ্চিম ও মধ্য ইরানে অবস্থিত আইআরজিসি-র সামরিক ঘাঁটি, ড্রোন কেন্দ্র ও মিসাইল সংরক্ষণাগারে ব্যাপক হামলা চালায়। এই পদক্ষেপের পরেই ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারির সুরে জানান, বারবার এমন হামলা চালিয়ে গেলে আমেরিকা আর ইজ়রায়েলের পাশে থাকবে না।
বর্তমানে ইজ়রায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, নেতানিয়াহু শর্তসাপেক্ষে হামলা স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছেন। অর্থাৎ, ইরান নতুন করে হামলা না চালালে ইজ়রায়েলও সংযত থাকবে। তবে দুই দেশের এই প্রকাশ্য মতবিরোধ ও সামরিক সংঘাতের জেরে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও শান্তি কতটা বজায় থাকবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে কূটনৈতিক স্তরের সাফল্য এবং ইরান ও ইজ়রায়েল উভয় পক্ষের সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের ওপর।
