ট্রাম্পের ১০০ শতাংশ শুল্কের কোপে ভারতীয় পেটেন্ট ওষুধ, স্বস্তিতে জেনেরিক বাজার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক চরম সিদ্ধান্তে ভারতের ওষুধ শিল্পে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা এবং সাপ্লাই চেনের ঝুঁকি হ্রাসের যুক্তি দেখিয়ে ‘সেকশন ২৩২’ তদন্তের পর পেটেন্ট করা ওষুধ আমদানির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারকদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, জেনেরিক ওষুধকে আপাতত এই চড়া শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জেনেরিক ওষুধের বাজারে ভারতের একচেটিয়া আধিপত্য থাকায় স্বল্পমেয়াদে বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।
মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন নিয়ম ২০২৬ সালের জুলাই এবং সেপ্টেম্বর মাস থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, দেশে ব্যবহৃত প্রায় ৫৩ শতাংশ পেটেন্টযুক্ত ওষুধ এবং অধিকাংশ কাঁচামাল বা এপিআই (API) বিদেশের ওপর নির্ভরশীল, যা তাদের জনস্বাস্থ্য ও জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই নির্ভরতা কাটিয়ে আমেরিকায় উৎপাদন ও গবেষণা (R&D) ফিরিয়ে আনতেই এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেসব কো ম্পা নি তাদের উৎপাদন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেবে, তাদের প্রাথমিক পর্যায়ে ২০ শতাংশ শুল্কের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় ওষুধ শিল্পের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে কন্ট্র্যাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং বহুজাতিক সংস্থাগুলোকে কাঁচামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারতের যে বড় ভূমিকা রয়েছে, তাতে টান পড়তে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ফিরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বাড়লে ভারতে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পেটেন্ট করা ওষুধ যেহেতু ক্যানসার বা বিরল রোগের মতো জীবনদায়ী চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, তাই বিশ্বজুড়ে এর সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর এই শুল্কের প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
