ট্রেনের খাবার কি সত্যিই খারাপ? লোকসভায় বড় তথ্য দিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব! – এবেলা

ট্রেনের খাবার কি সত্যিই খারাপ? লোকসভায় বড় তথ্য দিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নতুন দিল্লি: ভারতীয় রেলে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটিরও বেশি মানুষ সফর করেন, আর যাত্রাপথে ক্ষুধা মেটাতে একটা বড় অংশের ভরসা রেলের ক্যাটারিং সেবা। কিন্তু ট্রেনের খাবারের মান কি সত্যিই ততটা খারাপ যতটা মনে করা হয়? লোকসভায় এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে এই বিষয়েই অত্যন্ত চমকপ্রদ কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।

৫৮ কোটি খাবারের মধ্যে অভিযোগ কত?

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন’ (IRCTC) প্রতি বছর ট্রেনে যাত্রীদের জন্য প্রায় ৫৮ কোটিরও বেশি খাবার (মিল) সরবরাহ করে। রেলমন্ত্রী জানান, এত বিশাল পরিমাণ খাবার সরবরাহের পর যাত্রীদের থেকে অভিযোগের হার অত্যন্ত নগণ্য—মাত্র ০.০০০৮ শতাংশ!

গাফিলতি দেখলেই কড়া পদক্ষেপ

খাবারের মান নিয়ে কোনো আপস করা হচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানান রেলমন্ত্রী। বিগত তিন বছরে নিয়ম ভাঙা এবং নিম্নমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগে আইআরসিটিসি বেশ কিছু কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে:

  • মোট ৫.১৩ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
  • ৫৪টি ক্ষেত্রে সংস্থাকে ‘কারণ দর্শানোর’ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
  • বড়সর নিয়মভঙ্গের কারণে ৬টি চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়াও, খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় অনেক লাইসেন্সধারীকে কালো তালিকাভুক্ত (Ban) করা হয়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই নিষিদ্ধ ক্যাটারিং সংস্থাগুলির তালিকা আইআরসিটিসি-র অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা আছে।

রান্নাঘরে সিসিটিভি ও নিয়মিত পরিদর্শন

খাবার যেখানে তৈরি হচ্ছে, সেই ‘বেইজ কিচেন’ এবং ট্রেনের ‘প্যান্ট্রি কার’-এর ওপর নজরদারি চালাতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে:

  • রেল ও আইআরসিটিসি-র খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা নিয়মিত আগাম না জানিয়েই পরিদর্শনে (Surprise Inspection) যান।
  • রান্নার জায়গা, রান্নার লোকজনের পরিচ্ছন্নতা এবং সরঞ্জামের মান খতিয়ে দেখা হয়।
  • রান্নাঘরের রিয়েল-টাইম নজরদারির জন্য কিচেনগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
  • রান্নায় শুধুমাত্র নামী ও ব্র্যান্ডেড কাঁচামাল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

থার্ড-পার্টি অডিট ও কাস্টমার সার্ভে

পরিষেবা আরও স্বচ্ছ রাখতে নিরপেক্ষ কোনো তৃতীয় পক্ষকে (Third Party) দিয়ে ক্যাটারিং ব্যবস্থার ওপর অডিট বা নিরীক্ষা চালানো হয়। পাশাপাশি, যাত্রীরা খাবার নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট তা জানতে নিয়মিত জরিপ (Customer Satisfaction Survey) করা হয় এবং প্যান্ট্রি কার থেকে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়।

রেল মন্ত্রকের দাবি—এই সব কড়া নজরদারি ও সতর্কতার ফলেই দেশের কোটি কোটি যাত্রীর কাছে সঠিক ও মানসম্মত খাবার পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *