ডান্ডিয়া নাচ, বার্বিকিউ আর মিনিট চল্লিশের অশোক সেন!

স্ট্রিং থিওরির জটিল তত্ত্ব ব্যাখ্যায় অশোক সেন, কলকাতায় দিলেন স্মারক বক্তৃতা
নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা:
প্রফেসর এসকে মিত্র স্মারক লেকচার দিতে বুধবার বিকেলে কলকাতায় হাজির হলেন প্রখ্যাত তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ও পদ্মভূষণ সম্মানপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী অশোক সেন। ‘গ্র্যাভিটি ফ্রম স্ট্রিংস অ্যান্ড স্ট্রিংস ফ্রম গ্র্যাভিটি’ শীর্ষক এই বক্তৃতায় তিনি স্ট্রিং থিওরির জটিল সমীকরণ ও ব্ল্যাক হোল সংক্রান্ত বিভিন্ন তত্ত্ব সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন।
অশোক সেনের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের নানা দিক উঠে এসেছে তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী প্রফেসর অমিতাভ রায়চৌধুরীর কথায়। এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি জানান, প্রয়াগরাজের হরিশচন্দ্র রিসার্চ ইনস্টিটিউটে (এইচআরআই) থাকাকালীন বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি অশোক সেনের উৎসবমুখর সত্তার কথা। সেখানে বার্ষিক ডান্ডিয়া নাচ কিংবা বার্বিকিউ অনুষ্ঠানে তাঁর সরব উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সহজ-সরল এই বিজ্ঞানী বরাবরই প্রশাসনিক কাজের চেয়ে শিক্ষকতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
অমিতাভ রায়চৌধুরী বলেন, “উনি সবসময় চাইতেন আমাকে কোনো প্রশাসনিক কমিটিতে না রেখে শুধু পড়াতে দিতে। তাঁর ক্লাসে ছাত্রদের ভিড়ই প্রমাণ করে তিনি কতটা দক্ষ শিক্ষক।” বর্তমানে বেঙ্গালুরুর ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিকাল সায়েন্সেস’-এর ইনফোসিস মাধব চেয়ার প্রফেসর হিসেবে কর্মরত অশোক সেন তাঁর উপস্থাপনার শৈলীতেও বজায় রেখেছেন বাহুল্যবর্জিত বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি। ৩৩টি স্লাইডের সেই প্রেজেন্টেশনে কোনো জাঁকজমক ছিল না, বরং বিষয়বস্তু ও তথ্যের গভীরতাই ছিল মূল কেন্দ্রবিন্দু।
সম্প্রতি ভারতীয় গবেষকদের একাংশের দাবি অনুযায়ী কোয়ান্টাম ফিজিক্সের সঙ্গে গীতার দর্শনের তুলনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিজ্ঞানী অশোক সেন বিনয়ের সঙ্গে জানান, তিনি কোয়ান্টাম ফিজিক্সের বিষয়ে অবগত হলেও গীতা পড়েননি, তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, প্রথম ভারতীয় হিসেবে ‘অস্কার ক্লেইন’ পদক বিজয়ী এই বিজ্ঞানী আগামী নভেম্বরে ফের কলকাতায় আসছেন। বুধবার বিকেলে তাঁর বক্তৃতা শুনতে উপচে পড়া ভিড় ছিল প্রেক্ষাগৃহে, যা প্রমাণ করে বিজ্ঞানচর্চার অন্দরমহলে তাঁর জনপ্রিয়তা এখনও অম্লান।
