ডান্ডিয়া নাচ, বার্বিকিউ আর সেই চল্লিশ মিনিট: অশোক সেনের অজানা গল্প!

জটিল তত্ত্বে সহজ বিচরণ, হার্ভার্ড-খ্যাত বিজ্ঞানী অশোক সেনের স্মারক বক্তৃতা
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রফেসর এস কে মিত্র স্মারক লেকচার দিতে বুধবার বিকেলে যখন মিলনায়তনে প্রবেশ করলেন পদ্মভূষণজয়ী বিজ্ঞানী অশোক সেন, তখন তাঁকে দেখে প্রেসিডেন্সির প্রাক্তনী ছাত্র বলেই ভ্রম হচ্ছিল। অলিভ রঙের সিক্স পকেট প্যান্ট আর হালকা গোলাপি টি-শার্ট পরা সত্তর বছর বয়সী এই বিজ্ঞানীর লেকচারের বিষয় ছিল ‘গ্র্যাভিটি ফ্রম স্ট্রিংস অ্যান্ড স্ট্রিংস ফ্রম গ্র্যাভিটি’।
তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার জটিল এই বিষয়টিকে তিনি অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেন। ব্ল্যাক হোল এন্ট্রপি ও ব্ল্যাক হোলের আকার সংক্রান্ত জটিল সমীকরণগুলো ব্যাখ্যা করার সময় তাঁর উপস্থাপনায় ছিল স্বচ্ছতা। নিজের প্রায় ৪০ মিনিটের এই বক্তৃতায় তিনি ৩৩টি স্লাইড ব্যবহার করেন। স্লাইডগুলোতে কোনো বাড়তি সাজসজ্জা বা ডিজাইনের আতিশয্য ছিল না, বরং বিষয়বস্তুর গভীরতাকেই তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
বক্তৃতার ফাঁকে সমসাময়িক বিতর্ক নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। সম্প্রতি কোয়ান্টাম ফিজিক্সের সঙ্গে গীতার দর্শনের মিল নিয়ে একদল গবেষক যে দাবি করেছিলেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিজ্ঞানী অশোক সেন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি কোয়ান্টাম ফিজিক্স জানলেও গীতা পড়েননি। ফলে এই দুইয়ের মধ্যে তুলনা করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াগরাজের হরিশচন্দ্র রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এইচআরআই) প্রাক্তন অধ্যাপক অমিতাভ রায়চৌধুরী অশোক সেনের ব্যক্তিজীবনের কিছু অজানা গল্প তুলে ধরেন। এইচআরআই-তে থাকাকালীন বিজ্ঞানী অশোকের কর্মজীবনের পাশাপাশি তাঁর সামাজিক জীবনের উচ্ছ্বাসও ফুটে ওঠে অমিতাভবাবুর বর্ণনায়। তিনি জানান, ডান্ডিয়া নাচ কিংবা বার্ষিক বার্বিকিউয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে বিজ্ঞানীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল দেখার মতো।
দীর্ঘ সময় এইচআরআই-তে কাজ করার পর বর্তমানে তিনি বেঙ্গালুরুর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল সায়েন্সেসে ‘ইনফোসিস মাধব চেয়ার প্রফেসর’ হিসেবে কর্মরত। অমিতাভবাবু স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রশাসনিক বা কমিটির কাজের চেয়ে অধ্যাপনাতেই অশোক সেনের আগ্রহ ছিল বেশি। ছাত্রছাত্রীদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও দক্ষ শিক্ষক হিসেবেই পরিচিত। লেকচার শেষে মিলনায়তনে উপচে পড়া ভিড়ই প্রমাণ করে, তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার জগতে আজও তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।
