ডায়েরির ‘এমএম’ রহস্যে এবার মদন মিত্রের সাত ঠিকানায় ইডির ম্যারাথন তল্লাশি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) নজরে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। সকাল থেকেই ভবানীপুর, কামারহাটি, জোকা, সন্তোষপুর, বেলেঘাটা এবং দক্ষিণেশ্বর-সহ বিধায়কের মোট আটটি ঠিকানায় একযোগে অভিযান শুরু করেন আধিকারিকরা। তবে একটি জায়গায় সন্দেহজনক কিছু না মেলায় বর্তমানে সাতটি ঠিকানায় জোরকদমে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। দুর্নীতিতে বিধায়কের কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে ভবানীপুরের বাসভবনে মদন মিত্রকে সরাসরি জেরা করছেন তদন্তকারীরা।
ডায়েরির সূত্র ধরে অভিযান
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আগে গ্রেফতার হওয়া প্রোমোটার অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিস থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার হয়েছিল। সেই ডায়েরিতে রহস্যময় ‘MM’ নামের উল্লেখ পান আধিকারিকরা। রাজনৈতিক ও পরিচিত মহলে মদন মিত্র ‘এমএম’ নামে বিশেষভাবে পরিচিত হওয়ায় সেই সূত্র ধরেই এই অভিযানের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয়। অয়ন শীলের সংস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ আর্থিক নয়ছয় হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনো দালালের মাধ্যমে বিধায়কও জড়িত ছিলেন বলে সন্দেহ করছেন আধিকারিকরা।
অভিযোগের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ইডির দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় এমন ১২৫টি নিয়োগ হয়েছে যেখানে সরাসরি দুর্নীতির স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগ, অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিধায়ক বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং সোনা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে অয়ন শীলের দফতর থেকে পুরসভার বহু আসল ওএমআর শিট উদ্ধার হওয়ার পর এই পুর-দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আসে। সিবিআইয়ের পাশাপাশি ইডি এই মামলার আর্থিক লেনদেনের অংশটি খতিয়ে দেখছে। হেভিওয়েট এই বিধায়কের ঠিকানায় ইডির এই ম্যারাথন তল্লাশির ফলে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
