তাইওয়ান জয়ের ছক? মার্কিন রণকৌশল বুঝতে যুদ্ধের গভীর পাঠ নিচ্ছে চীন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ এখন কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং বেইজিংয়ের জন্য এটি এক মহামূল্যবান রণকৌশলগত পাঠ্যবই হয়ে দাঁড়িয়েছে। হংকং ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি এবং ওয়াশিংটনের কৌশলগুলো অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করছে চীন।
লক্ষ্য যখন তাইওয়ান প্রণালী
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই গভীর পর্যবেক্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাইওয়ান। বেইজিং আশঙ্কা করছে, ভবিষ্যতে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে আমেরিকার সাথে সরাসরি সামরিক সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধে আমেরিকা কীভাবে তাদের উন্নত অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করছে, ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান কীভাবে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিচ্ছে—এসবই এখন চীনের সামরিক গবেষকদের প্রধান পাঠ্য বিষয়। ওয়াশিংটনের যুদ্ধের ধরণ এবং তাদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করাই এখন বেইজিংয়ের কৌশলগত অগ্রাধিকার।
প্রভাব ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা
চীনের এই সমর-বিশ্লেষণ ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চীন তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে পরিবর্তন আনছে এবং মার্কিন ড্রোন ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অকেজো করার পাল্টা কৌশল তৈরি করছে। যদি বেইজিং সফলভাবে মার্কিন সামরিক দুর্বলতাগুলো ধরতে পারে, তবে তাইওয়ান প্রণালীতে শক্তির ভারসাম্য আমূল বদলে যেতে পারে। এর ফলে এশিয়ায় মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
