তামান্না হত্যার এক বছর পর সুবিচারের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কালীগঞ্জে বোমা হামলায় নিহত ছোট্ট তামান্না এবং আনিস খানের হত্যার বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হলেন নিহতদের পরিবার। মঙ্গলবার বিধানসভায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন এবং আনিসের বাবা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা। দোষীদের কড়া শাস্তি এবং দ্রুত বিচারের আর্জি নিয়েই এই তাৎপর্যপূর্ণ সাক্ষাৎপর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
থমকে থাকা তদন্ত ও বিচারের আর্তি
গত ২০২৫ সালের ২৩ জুন কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন বিজয় মিছিল চলাকালীন ছোড়া বোমার আঘাতে মায়ের সামনেই প্রাণ হারায় তামান্না। এই মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও পরিবারের অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের আমলে তদন্তের কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। দায়ের হওয়া মামলায় ২৪ জন অভিযুক্তের মধ্যে মাত্র ১১ জন গ্রেপ্তার হলেও বাকিরা এখনও অধরা। পূর্বতন সরকারের চরম নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে এদিন দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান সাবিনা ইয়াসমিন।
জিরো টলারেন্স নীতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
নিহতদের পরিবারকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন রাজ্যপালের ভাষণের ওপর জবাবি ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানান, রামপুরহাট, হাঁসখালি, কামদুনি এবং তামান্না হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স অবস্থান গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা তদন্ত দ্রুত আইনি গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সিপিআইএম নেতৃত্বের সঙ্গে ভবানীভবনেও যান তামান্নার মা ও আনিসের বাবা। পাশাপাশি নদিয়া জেলা পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাও করে বামপন্থী সংগঠনগুলির জোরালো বিক্ষোভ এই বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন করে প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করেছে। সরকারের শীর্ষস্তর থেকে আসা এই আশ্বাসের ফলে দ্রুত বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারি এবং রাজ্য পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ায় নতুন করে তৎপরতা বৃদ্ধির জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
