তারকা নয় মানুষ হিসেবেই বড় হোক সন্তান, মাতৃ দিবসে বলিউড মায়েদের বিশেষ বার্তা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মাতৃ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বলিউডের জনপ্রিয় তারকা মায়েরা তাঁদের মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। রুপোলি পর্দার জৌলুস ছাপিয়ে তাঁদের কণ্ঠে উঠে এসেছে দায়িত্ববোধ, সন্তানদের স্বাধীনতা এবং তারকাখ্যাতির বিড়ম্বনা থেকে রক্ষার এক সচেতন সুর। প্রজন্মের পর প্রজন্ম অভিনয়ের ঐতিহ্য থাকলেও বর্তমানের অভিনেত্রীরা সন্তানদের ওপর কোনো পেশা চাপিয়ে দিতে নারাজ।
উত্তরসূরিদের জন্য স্বাধীনতার মন্ত্র
অভিনেত্রী কাজল তাঁর মা তনুজার কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা নিজের জীবনেও প্রয়োগ করছেন। কাজলের মতে, নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়া এবং তার দায়ভার গ্রহণ করতে শেখাই হলো প্রকৃত স্বাধীনতা। তবে তারকা দম্পতি অজয় দেবগণ ও কাজলের মেয়ে নিসাকে নিয়ে পাপারাজ্জিদের অতিরিক্ত আগ্রহে কাজল কিছুটা উদ্বিগ্ন। তিনি মনে করেন, ছোটবেলা থেকেই তারকা সন্তানদের ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ করা অন্যায্য। নিসা আপাতত অভিনয়ে আসার পরিবর্তে নিজের পছন্দের পথেই হাঁটতে চান, যা মা হিসেবে কাজল পূর্ণ সমর্থন করছেন।
অন্যদিকে, আলিয়া ভাট তাঁর মা সোনি রাজদানের সংগ্রাম থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ। নিজের মেয়ে রাহা কাপুরের ক্ষেত্রে আলিয়ার পরিকল্পনা কিছুটা ব্যতিক্রমী। তিনি চান তাঁর সন্তান অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে খেলাধুলার মতো ভিন্ন কোনো মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক এবং নিজের পরিচয় নিজেই তৈরি করুক।
ঐতিহ্য রক্ষা বনাম সুরক্ষা
সম্প্রতি অভিনয়ে পা রাখা ঋদ্ধিমা কাপুর সাহনি তাঁর মা নীতু কাপুরের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত আবেগঘন বলে বর্ণনা করেছেন। তবে গ্ল্যামার জগতের নেতিবাচক দিক এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব থেকে নিজের মেয়ে সমারাকে আগলে রাখতে চান তিনি। অন্যদিকে, করিনা কাপুর খান তাঁর মা ববিতার আত্মনির্ভরশীলতাকে নিজের পাথেয় করেছেন। করিনার মতে, তাঁর মা একাই তাঁদের বড় করে তুলেছেন এবং শিখিয়েছেন কীভাবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিকূলতা জয় করতে হয়।
ভবিষ্যৎ প্রভাব
বলিউডের এই প্রভাবশালী মায়েদের চিন্তাভাবনায় একটি বড় পরিবর্তন স্পষ্ট। তাঁরা সন্তানদের কেবল একটি ‘স্টার কিড’ বা উত্তরসূরি হিসেবে নয়, বরং একজন স্বাধীন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী। এই দৃষ্টিভঙ্গি আগামী দিনে তারকা সন্তানদের ওপর থেকে সামাজিক ও পারিবারিক প্রত্যাশার চাপ কমিয়ে তাঁদের মানসিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তারকা মায়েদের এই অবস্থান সমাজের সাধারণ অভিভাবকদের কাছেও সন্তানদের স্বনির্ভর ও স্বাধীনচেতা করার একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
