তারাতলা কাণ্ডের পর কড়া পদক্ষেপ! রাজ্যে বহুতল অডিটের নির্দেশ শুভেন্দু অধিকারীর – এবেলা

তারাতলা কাণ্ডের পর কড়া পদক্ষেপ! রাজ্যে বহুতল অডিটের নির্দেশ শুভেন্দু অধিকারীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: গার্ডেনরিচ, কসবা, তিলজলার পর তারাতলার ভয়াবহ গুদাম বিপর্যয়—একের পর এক বেআইনি নির্মাণ ও ভবন ভেঙে পড়ার ঘটনায় এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের নির্মাণ নীতিতে বড়সড় বদলের ঘোষণা করলেন।

৩১ জুলাই পর্যন্ত বিশেষ ‘স্ট্রাকচারাল অডিট’

মানুষের জীবন রক্ষা করতে ৩১ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যের একাধিক পুরসভা এলাকায় বিশেষ ‘স্ট্রাকচারাল অডিট’ (Structural Audit) চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ পাণ্ডের নেতৃত্বে গঠিত এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে রাখা হয়েছে RITES ও আইআইটি (IIT) খড়গপুরের মতো বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে।

কোন কোন এলাকা অডিটের আওতায়?

কলকাতা ও বিধাননগর ছাড়াও পূজালী, বারুইপুর, বজবজ, মহেশতলা, রাজপুর-সোনারপুর এবং নতুন করে দক্ষিণ দমদম, বরানগর, কামারহাটি ও হাওড়ার গঙ্গা সংলগ্ন নির্মীয়মাণ এলাকাগুলিকে এই অডিটের আওতায় আনা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ও হুঁশিয়ারি:

  • নির্মাণ কাজ: সব নির্মাণ কাজ ঢালাও বন্ধ হবে না। সাধারণ বাড়ি মেরামত বা সংস্কারের কাজ এই নির্দেশের বাইরে থাকবে। যে সব প্রকল্পের অডিট সম্পূর্ণ হয়ে ছাড়পত্র মিলবে, সেগুলি পুনরায় চালু হবে। কিন্তু গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়লে প্রকল্প সরাসরি বাতিল করা হবে।
  • কঠোর শাস্তি: তারাতলা ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আর্কিটেক্ট ও ডিজাইনারদের কালো তালিকাভুক্ত (Blacklist) করা হবে।
  • দুর্নীতির বিরুদ্ধে বার্তা: নির্মাণ অনুমোদনে জালিয়াতি বা ঘুষের শিকার হলে সরাসরি স্থানীয় থানায় এফআইআর করার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অপরাধী যত বড়ই হোক, রেয়াত করা হবে না।
  • হাইরাইজ সংক্রান্ত নতুন নিয়ম: G+5 বা তার বেশি উচ্চতার সমস্ত ভবনকে এবার থেকে ‘হাইরাইজ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে শহরের সমস্ত বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নি-নিরাপত্তা ও বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্রের অডিট করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

তবে রেল, মেট্রো, বন্দর, জাতীয় ও রাজ্য সড়কের মতো সরকারি পরিকাঠামো প্রকল্পগুলিকে এই অডিটের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত নির্মাণ শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে বড় সংস্থাগুলিকে মানবিক সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে। পুজোর আগেই নিরাপদ নগরায়নের লক্ষ্যে এই উদ্যোগের সুফল মিলবে বলে আশাবাদী রাজ্য সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *