তারাতলা গুদাম ধস: মৃত ১১! মাঝরাতে গ্রেফতার মালিক শম্ভুনাথ, গঠন হলো সিট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ার ভয়াবহ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ের পর বুধবার মধ্যরাতেই তারাতলার একটি আবাসন থেকে গুদামের অন্যতম মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে।
গ্রেফতার আরও চার জন:
শম্ভুনাথের পাশাপাশি রাতে জিজ্ঞাসাবাদের পর এই ঘটনায় আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে তারাতলা থানার পুলিশ। তাঁরা হলেন—
- স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত
- সুপারভাইজার সৈয়দ মহম্মদ গুলজার
- লেবার সাপ্লায়ার (কর্মী জোগানদার) দিবাকর ভান্ডারী
- বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করানো ব্রোকার আবদুল হামিদ
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ:
বুধবার বেলা ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গুদামের ছাদ। লোহার কাঠামো ও কংক্রিটের স্তূপের নীচে চাপা পড়েন প্রায় ৪০ জন শ্রমিক। বৃহস্পতিবার সকালেও ঘটনাস্থলে জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF ও SDRF) উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। হাইড্রোলিক ক্রেন দিয়ে কাঠামো টেনে ধরে গ্যাস কাটার দিয়ে ভারী লোহার বিম কেটে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বের করার চেষ্টা চলছে। এখনও পর্যন্ত ২৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহতরা এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তদন্তে বিশেষ সিট (SIT) গঠন:
এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে থাকা গাফিলতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি কমিশনারের তত্ত্বাবধানে এই দলে রয়েছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার এক আধিকারিক, হোমিসাইড শাখার ওসি-সহ গোয়েন্দা বিভাগের চার জন এবং তারাতলা থানার দুই সাব-ইন্সপেক্টর।
গুদামের পটভূমি:
কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গুদামটি যে জমিতে তৈরি হচ্ছিল তা মূলত বন্দর কর্তৃপক্ষের। ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে ‘বেহরা ব্রাদার্স’ নামের একটি সংস্থাকে ৩০ বছরের জন্য ওই জমি লিজ দেওয়া হয়েছিল। চা-পাতা মজুত ও প্যাকেজিংয়ের জন্যই এই নির্মাণকাজ করাচ্ছিলেন সংস্থার অন্যতম মালিক শম্ভুনাথ বেহরা।
