তারাতলা বিপর্যয়ে গ্রেপ্তার ৫, তদন্তে উচ্চস্তরীয় সিট! যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতার তারাতলায় গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় চারিদিক যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বুধবার রাতের পর বৃহস্পতিবার সকালেও দুর্ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে রয়েছে লোহার বিম ও সিমেন্টের চাঙড়। সেনার পাশাপাশি এনডিআরএফ, দমকল এবং পুলিশের যৌথ উদ্যোগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে। বিশেষ রাডার এবং স্নিফার ডগের সাহায্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিপর্যয়ের জেরে এখনও পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। বৃহস্পতিবার সকালেও ৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তদন্তে উচ্চস্তরীয় সিট ও কড়া পদক্ষেপ
ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চস্তরীয় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। দলে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এসিপি জয়সূর্য মুখোপাধ্যায়, হোমিসাইড শাখার ওসি দেবাশিস দত্ত-সহ অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকরা। নির্মাণে গাফিলতির অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে রয়েছেন সুপারভাইজার গুলজার হোসেন, লোহার কাঠামো প্রস্তুতকারক কমল সামন্ত এবং কলকাতা পুরসভায় নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের মধ্যস্থতাকারী আবদুল হামিদ। অভিযোগ উঠেছে, এই গুদাম নির্মাণে যুক্ত ছিল ‘কুখ্যাত’ আসগর এবং বিপর্যয়ের বহু আগেই বন্দর কর্তৃপক্ষকে সম্ভাব্য বিপদের কথা জানিয়েছিল বাম কর্মী ইউনিয়ন। পূর্ব সতর্কতা উপেক্ষা করে ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণের কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্পষ্ট হচ্ছে।
প্রশাসন ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনায় বেআইনি নির্মাণের দৌরাত্ম্য এবং নজরদারির অভাব নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, যা আগামী দিনে শহরের অন্যান্য নির্মাণকাজগুলির ক্ষেত্রেও প্রশাসনের কড়াকড়ি বৃদ্ধি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পথে হাঁটছে প্রশাসন, তদন্তে আরও কারও গাফিলতির প্রমাণ মিললে তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। গোটা পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে রাজ্য সরকার। এই ভয়াবহ বিপর্যয় এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়ে আজই বিধানসভায় বিস্তারিত বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
