তারাতলা বিপর্যয়ে রাতেই গ্রেপ্তার গুদাম মালিক, পুলিশের জালে আরও চার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তারাতলায় ভয়াবহ গুদাম বিপর্যয়ের পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার গভীর রাতে স্থানীয় একটি আবাসন থেকে গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশে লালবাজার স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করার পরেই এই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মালিক ছাড়াও পুলিশের জালে ধরা পড়েছে অয়ন ট্রেডার্সের সুপারভাইজার গুলজার হুসেন ও লেবার সাপ্লায়ার দিবাকর ভাণ্ডারি-সহ আরও দুজন। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হল। ধৃত গুদাম মালিকের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলাও রুজু করা হয়েছে।
উচ্চস্তরীয় তদন্ত ও যুদ্ধকালীন উদ্ধারকাজ
মর্মান্তিক এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালেও দুর্ঘটনাস্থলে এনডিআরএফ এবং রাজ্যের উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে। চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা বড় বড় লোহার বিম ও সিমেন্টের চাঙড়ের নিচে আরও কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে সাবধানে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে। উদ্ধারকাজ এবং গোটা পরিস্থিতির ওপর সারা রাত নজরদারি চালান মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা।
এই বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং গাফিলতির শিকড়ে পৌঁছতে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। পরিকাঠামোগত ত্রুটি এবং সুরক্ষাবিধি অমান্য করার কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, যার জেরে প্রাণ হারিয়েছেন আটজন। এই ঘটনা শহরের অন্যান্য বাণিজ্যিক গুদামগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ আগামী দিনে শহরের বেআইনি নির্মাণ ও অবৈজ্ঞানিক গুদাম পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি কড়া সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। সিট আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো চক্র জড়িত কি না, তা தீவிரভাবে খতিয়ে দেখছেন।
