‘তারিখ পে তারিখ’! সুপ্রিম কোর্টেই ঝুলে ৯৬ হাজার মামলা, ৩০ বছর ধরে বিচারের অপেক্ষায় ২৬টি নথি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আদালতের চত্বরে বিচারের আশায় কাটছে বছরের পর বছর, আর সাধারণ মানুষের মনে যেন বারবার ভেসে উঠছে সিনেমার সেই বিখ্যাত ডায়লগ— ‘তারিখ পে তারিখ’। দেশে বিচারব্যবস্থার ভয়াবহ দীর্ঘসূত্রিতার এক হতাশাজনক ছবি সম্প্রতি সংসদে পেশ করলেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল।
আইনমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টেই বর্তমানে ৯৬ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজারের বেশি মামলা গত এক দশক ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ঝুলছে। এমনকি ২৬টি মামলা এমন রয়েছে, যেগুলির বয়স ৩০ বছরেরও বেশি! আর ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে রয়েছে ৫৫৮টি মামলা।
সংবাদটি কেবল সর্বোচ্চ আদালতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ‘ন্যাশনাল জুডিশিয়াল ডেটা গ্রিড’ (NJDG)-এর পরিসংখ্যান বলছে, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট এবং দেশের সমস্ত নিম্ন আদালত মিলিয়ে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৫.৬৪ কোটি।
কেন তৈরি হচ্ছে এই মামলার পাহাড়?
বিশেষজ্ঞ ও প্রাক্তন বিচারপতিদের মতে, এই দীর্ঘসূত্রিতার পেছনে মূল কারণগুলো হলো:
- বিচারপতির অভাব: পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারক ও আদালত কর্মীর শূন্যপদ না পূরণ হওয়া।
- নথি ও রিপোর্টের বিলম্ব: ফরেনসিক ও ব্যালেস্টিক রিপোর্ট পেতে দেরি এবং সরকারি সংস্থাগুলোর নথি জমা দিতে টালবাহানা।
- সহযোগিতার অভাব: মামলাকারী ও সাক্ষীদের সময়মতো আদালতে উপস্থিত না হওয়া এবং জটিল আইনি প্রক্রিয়ার ফাঁস।
আইনের বিলম্ব মানেই যেন ইনসাফ থেকে বঞ্চিত হওয়া। ১৯৯৩ সালের ‘দামিনী’ ছবির সানি দেওলের সেই আইকনিক সংলাপ ২০২৬ সালেও সমান সত্যি হয়ে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের মনে বিঁধছে— “ইনসাফ নহি মিলা মি লর্ড, মিলি তো সির্ফ ইয়ে তারিখ!”
