তিনবারের পরাজয় মুছে ছাব্বিশের জয়ে সটান মন্ত্রী হলেন দুধকুমার মণ্ডল! – এবেলা

তিনবারের পরাজয় মুছে ছাব্বিশের জয়ে সটান মন্ত্রী হলেন দুধকুমার মণ্ডল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক সংগ্রাম, একাধিক নির্বাচনী পরাজয় এবং নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে সাফল্যের শিখরে পৌঁছালেন বীরভূমের প্রবীণ বিজেপি নেতা দুধকুমার মণ্ডল। আটের দশক থেকে গেরুয়া রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই লড়াকু মুখ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ময়ূরেশ্বর কেন্দ্র থেকে শুধু জয়ীই হননি, প্রথমবার বিধায়ক হয়েই সটান জায়গা করে নিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রিসভায়। সোমবার লোকভবনে শপথগ্রহণের পর এক আবেগঘন মুহূর্তে তিনি স্মরণ করেন সেইসব কর্মীদের, যাঁদের আত্মত্যাগের ফলে আজ দল এই সাফল্যে পৌঁছেছে।

আরএসএস থেকে মন্ত্রিত্বের দীর্ঘ সফর

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) হাত ধরে দুধকুমার মণ্ডলের রাজনৈতিক জীবনের পথচলা শুরু। ১৯৮৮ সালে ময়ূরেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখেন। এরপর ১৯৯৩ সালে পঞ্চায়েত প্রধান নির্বাচিত হওয়া থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ স্তরেও তিনি দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। স্থানীয় স্তরে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পর ২০১১ সালে তিনি প্রথমবার ময়ূরেশ্বর আসন থেকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, কিন্তু সিপিএম প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। ২০১৫ সালে বীরভূম জেলা বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করলেও ২০১৬ সালের বিধানসভা ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তাঁর জয় অধরা থেকে যায়। পরপর তিনবার বড় নির্বাচনে এই ব্যর্থতা সত্ত্বেও তিনি দলের প্রতি একনিষ্ঠ থেকে নিজের সাংগঠনিক লড়াই চালিয়ে যান।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সম্ভাব্য প্রভাব

টানা তিনবার পরাজয়ের পর ২০২৬ সালের এই জয় দুধকুমার মণ্ডলের রাজনৈতিক জীবনে একটি ঐতিহাসিক টার্নিং পয়েন্ট। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বিজেপি সরকার গঠনের পর তাঁর এই মন্ত্রিত্ব প্রাপ্তি বীরভূম জেলার রাজনীতিতে গেরুয়া শিবিরের অবস্থানকে আরও মজবুত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘ পঞ্চায়েত স্তরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় গ্রামীণ প্রশাসনের দুর্নীতি মুক্তকরণ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। শপথগ্রহণের পর দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলার পাশাপাশি গ্রাম ও শহরের সামগ্রিক উন্নয়নের যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক কর্মপদ্ধতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *