তিস্তার অতলে সলিল সমাধি! উদ্ধার শিশু-সহ চার জনের দেহ, পাহাড়ি ঝরনায় তলিয়ে গেল স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদন, উত্তরবঙ্গ: পাহাড়ি ঝরনার হঠাৎ আসা ভয়ংকর জলস্রোত আর ধস—প্রকৃতির এই রুদ্ররোষে কেড়ে নিল চারটি প্রাণ। সিকিম থেকে শিলিগুড়িগামী একটি গাড়ি নিখোঁজ হওয়ার দুই দিনের রুদ্ধশ্বাস তল্লাশির পর, রবিবার করোনেশন সেতু সংলগ্ন তিস্তার গর্ভ থেকে উদ্ধার হলো গাড়িটি। তার ভেতর থেকে মিলেছে এক শিশুসহ চার জনের নিথর দেহ।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত বিকেলে?
গত শুক্রবার ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ছিল উত্তরবঙ্গ। সেবক ও করোনেশন সেতুর মাঝে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ঘটে যায় বিপত্তি। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঝরনা আচমকাই ফুলেফেঁপে ওঠে। প্রবল জলের তোড়ে রাস্তা ভেঙে ধস নামে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, সেই ধসের ঝাপটায় রাস্তা থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সরাসরি আছড়ে পড়ে তিস্তার উত্তাল জলরাশির মধ্যে।
নিখোঁজ হওয়ার রহস্যের মর্মান্তিক সমাপ্তি:
নিহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে—স্মারিকা নিউজল, সায়েনি নিউজল, টিকা মায়া দাহাল এবং দিত্যা ছেত্রী। শিলিগুড়িতে চিকিৎসাধীন এক আত্মীয়কে দেখতে শুক্রবার বিকেলে রওনা দিয়েছিলেন এই পরিবারটি। রোম্বি এলাকা থেকে আত্মীয়দের সঙ্গে শেষ কথা হওয়ার পরই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ দুই দিন ধরে এনডিআরএফ, সিকিম প্রশাসন ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের যৌথ তল্লাশি অভিযানে উদ্ধারকারীরা অবশেষে করোনেশন সেতুর কাছে খুঁজে পান গাড়িটি।
পাহাড়ের পথে মৃত্যুফাঁদ:
গাড়িটি যখন তিস্তার গর্ভ থেকে তোলা হয়, তখন চার জনের নিথর দেহ ছাড়া আর কোনো প্রাণের স্পন্দন অবশিষ্ট ছিল না। এই মর্মান্তিক ঘটনা পাহাড়ি পথে ভারী বর্ষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রাণঘাতী ঝুঁকিকে আবারও সামনে নিয়ে এল। এক পরিবারের এই করুণ পরিণতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। প্রকৃতির কি নিষ্ঠুর খেলায় মুহূর্তের মধ্যে মুছে গেল চারটি প্রাণ—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে শোকাতুর স্বজনদের মনে।
