তীব্র কোন্দলে টালমাটাল শিব সেনা, পদ ছাড়ার চরম বার্তা দিলেন উদ্ধব ঠাকরে! – এবেলা

তীব্র কোন্দলে টালমাটাল শিব সেনা, পদ ছাড়ার চরম বার্তা দিলেন উদ্ধব ঠাকরে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

শিব সেনার অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ভাঙন এবার চূড়ান্ত রূপ ধারণ করেছে। দলের ভেতরে একের পর এক বিদ্রোহের জেরে তীব্র ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে শিব সেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে দলের শীর্ষ পদ ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। দলের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় তিনি স্পষ্ট জানান, কর্মীরা যদি তাঁর নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারান, তবে তিনি পদ আঁকড়ে থাকবেন না। বরং অন্য কোনো যোগ্য কর্মীর হাতে দলের দায়িত্ব তুলে দিতে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে পদের মায়া ত্যাগ করলেও দলের মূল আদর্শ এবং বালাসাহেব ঠাকরের প্রদর্শিত লড়াইয়ের পথ থেকে তিনি কোনোভাবেই বিচ্যুত হবেন না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

বিদ্রোহের কারণ ও ৬ সাংসদের দলত্যাগের জল্পনা এই সংকটের মূল কারণ শিব সেনার ভেতরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ এবং আদর্শগত বিরোধ। সম্প্রতি শিব সেনার ৬ জন লোকসভা সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে দল ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মূল অভিযোগ, শিব সেনা তার দীর্ঘদিনের আদি হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শ ত্যাগ করে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে দলটি সম্পূর্ণভাবে কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন উদ্ধব ঠাকরে। তিনি যুক্তি দেখান, দীর্ঘ ৩০ বছর বিজেপির সঙ্গে জোট করেও যেখানে শিব সেনা নিজের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বজায় রাখতে পেরেছে, সেখানে কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাওয়ার দাবি অবান্তর। উল্টো শিব সেনার সমর্থনে নির্বাচিত হয়ে যারা আজ দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন, তাঁদের আচরণের জন্য তিনি ভোটারদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন।

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব উদ্ধব ঠাকরের এই আকস্মিক পদত্যাগের প্রস্তাব এবং ৬ সাংসদের বিদ্রোহ মহারাষ্ট্রের রাজ্য রাজনীতিতে বড় ধরনের সমীকরণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই উদ্ধব ঠাকরে নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান, তবে শিব সেনা (ইউবিটি) এক গভীর নেতৃত্ব সংকটে পড়বে, যা দলটির সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে। অন্যদিকে, শিব সেনার এই অভ্যন্তরীণ ভাঙন আগামী নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের মহাজোটের স্থায়িত্ব এবং আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে। বিজেপিবিরোধী শিবিরের এই দুর্বলতা মহারাষ্ট্রের আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ে শাসক জোটকে বাড়তি সুবিধা করে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *