তীব্র গরমে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকিতে শিশুরা, শিশুদের সুরক্ষায় ওআরএস হতে পারে ম্যাজিক ড্রিঙ্ক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশজুড়ে তাপমাত্রার পারদ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই তীব্র দহন ও অসহনীয় গরমে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে শিশুরা। রোদে খেলাধুলা বা অতিরিক্ত ঘামের ফলে শিশুদের শরীরে দ্রুত জল ও প্রয়োজনীয় খনিজ লবণের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা নামে পরিচিত। সঠিক সময়ে এই সমস্যার প্রতিকার না করলে তা মারাত্মক দুর্বলতা, বমি কিংবা ডায়রিয়ার মতো বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
শিশুর শারীরিক লক্ষণ ও সতর্কতা
চিকিৎসকদের মতে, বড়দের তুলনায় শিশুদের শরীরের বিপাকীয় হার বেশি হওয়ায় তারা দ্রুত জল হারায়। যদি কোনো শিশু অস্বাভাবিক তৃষ্ণা অনুভব করে, নিস্তেজ হয়ে পড়ে কিংবা তার মুখ ও জিভ শুকিয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে সে জলশূন্যতায় ভুগছে। বিশেষ করে বাইরে খেলাধুলার পর শিশু অতিরিক্ত ঝিমিয়ে পড়লে বা ঘন ঘন বমি ও পাতলা পায়খানা করলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। এই পরিস্থিতিতে শরীরে খনিজ লবণের ভারসাম্য বজায় রাখতে ওআরএস (ORS) বা ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট হতে পারে প্রধান রক্ষাকবচ।
বাড়িতেই প্রস্তুত করুন জীবনদায়ী পানীয়
বাজারের কেনা ওআরএস হাতের কাছে না থাকলে খুব সহজেই বাড়িতে এটি তৈরি করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা এক লিটার ফোটানো ঠান্ডা জলে ছয় চা চামচ চিনি এবং আধা চা চামচ লবণ মিশিয়ে এই পানীয় তৈরির পরামর্শ দেন। তবে মনে রাখতে হবে, চিনি বা লবণের পরিমাণের তারতম্য শিশুর জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। এই ঘরোয়া মিশ্রণটি তৈরির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবহার করা উচিত। জলশূন্যতা রোধের পাশাপাশি শিশুকে এই গরমে হালকা সুতির পোশাক পরানো এবং কড়া রোদে বাড়ির বাইরে না বের করা অত্যন্ত জরুরি।
এক ঝলকে
- তীব্র গরমে শিশুদের শরীরে দ্রুত খনিজ লবণ ও জলের ঘাটতি তৈরি হয়ে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ছে।
- নিস্তেজ ভাব, শুকনো মুখ এবং বমিভাব দেখা দিলে শিশুকে অবিলম্বে ওআরএস দেওয়া প্রয়োজন।
- ১ লিটার জলে ৬ চামচ চিনি ও আধা চামচ লবণ মিশিয়ে বাড়িতেই আদর্শ পানীয় তৈরি করা যায়।
- আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত শিশুদের বাড়ির ভেতরে রাখাই নিরাপদ।
