তৃণমূলের অন্দরে এবার সংঘাতের চরম রূপ, মুখপাত্র অরূপের ইস্তফা নিয়ে অভিষেককে সরাসরি নিশানা কল্যাণের!

তৃণমূলের অন্দরে এবার সংঘাতের চরম রূপ, মুখপাত্র অরূপের ইস্তফা নিয়ে অভিষেককে সরাসরি নিশানা কল্যাণের!

তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর দলীয় পদ থেকে পদত্যাগকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরের কোন্দল এবার প্রকাশ্য রূপ নিল। শ্রীরামপুরের বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার জন্য সরাসরি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করে তীব্র আক্রমণ শাণিয়েছেন। কল্যাণের এই বিস্ফোরক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং অভ্যন্তরীণ ফাটল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অভিষেককে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন কল্যাণ

বুধবার এক দলীয় সভায় বক্তব্য রাখার সময় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানতে চান, অরূপের এমন কী যোগ্যতা আছে যার জন্য তাঁকে সারা রাজ্যের নেতা বানানো হলো। কল্যাণের অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই অরূপকে নেতা পদে বসিয়েছিলেন, তাই বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতির সমস্ত দায়ভারও ওঁর ওপরেই বর্তায়। তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, অভিষেক যাঁদের নেতা হিসেবে তৈরি করেছেন, তাঁরাই এখন তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। অতীতে গোটা রাজ্যে বক্তৃতা করে বেড়ানো অরূপ চক্রবর্তী আজ কেন দল ছাড়ছেন, তা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

তৃণমূলের নবীন বনাম প্রবীণ শিবিরের ঠান্ডা লড়াই দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে চর্চিত। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের শাসকদলের এক শীর্ষ সাংসদ কর্তৃক সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে এভাবে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে সরাসরি আক্রমণ করার ঘটনা নজিরবিহীন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কেবল একজন মুখপাত্রের ইস্তফার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি দলের নীতিনির্ধারণী স্তরে ক্ষমতার ভারসাম্য ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। কল্যাণের এই প্রকাশ্য তোপ দলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ নেতা-কর্মীদের মনোবলের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *