‘তৃণমূলের আর্জি খারিজ হয়নি, ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে!’ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর দাবি কপিল সিব্বলের

‘তৃণমূলের আর্জি খারিজ হয়নি, ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে!’ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর দাবি কপিল সিব্বলের

নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ‘ভুল ব্যাখ্যা’ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাঁর মতে, আদালত তৃণমূলের আর্জি খারিজ করেনি, বরং কমিশনের নির্দেশিকা যাতে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয় সেই নির্দেশই দিয়েছে। মূলত ভোট গণনার কাজে নিযুক্ত সুপারভাইজার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়েই এই আইনি টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।

আইনি লড়াই ও সিব্বলের ব্যাখ্যা

কপিল সিব্বল জানান, মামলার শুরুতে তারা বিজ্ঞপ্তির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানালেও পরবর্তী সময়ে সেই অবস্থান পরিবর্তন করা হয়। তৃণমূলের দাবি ছিল, কমিশনের নিজস্ব বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের কর্মীদেরও সমানভাবে নিযুক্ত করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে কমিশনকে তাদের নিজস্ব নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার কথা জানিয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবি

আদালতের নির্দেশের প্রেক্ষিতে সিব্বল স্পষ্ট করেছেন যে, প্রতিটি বুথে বা গণনাকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের থাকাও বাধ্যতামূলক। এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট কমিশনের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে রায় দিলেও, সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তির সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়। সিব্বলের দাবি, আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে উভয় পক্ষের ভারসাম্য বজায় রাখার নির্দেশই কার্যকর করেছে।

প্রভাব ও বাস্তবতা

এই আইনি ব্যাখ্যার ফলে ভোট গণনা ও নির্বাচন পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য উভয় স্তরের সরকারি কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হলো। তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, এতে কোনো একটি নির্দিষ্ট পক্ষের আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ কমবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে। বিরোধীদের একাংশ একে মামলার হার হিসেবে দেখলেও, তৃণমূল নেতৃত্ব একে তাদের দাবির নৈতিক জয় হিসেবেই তুলে ধরছে।

এক ঝলকে

  • সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে বলে দাবি করলেন তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সিব্বল।
  • আদালত কমিশনের বিজ্ঞপ্তি খারিজ না করে সেটি যথাযথভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে।
  • ভোট গণনার কাজে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য—উভয় স্তরের সরকারি কর্মীদের নিয়োগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
  • নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব নিয়ম মেনেই স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *