‘তৃণমূলের দুঃশাসন থেকে মুক্তি, বাংলায় দ্বিতীয় স্বাধীনতা’: দমদমে হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

‘তৃণমূলের দুঃশাসন থেকে মুক্তি, বাংলায় দ্বিতীয় স্বাধীনতা’: দমদমে হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

নিজস্ব প্রতিবেদন, দমদম: রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালকে ব্রিটিশ আমলের অত্যাচারের সঙ্গে তুলনা করে তীব্র আক্রমণ শানালেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার দমদমে বিজেপির আয়োজিত একটি রক্তদান শিবির থেকে তিনি ২০২৬ সালের এই পরিবর্তনকে বাংলার ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর দাবি, তোষণের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে এখন প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল দিক:

  • দুঃশাসনের অবসান: মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিগ্রস্ত শক্তিকে পরাজিত করে সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। তিনি বিগত সরকারের দীর্ঘদিনের শাসনকে রাজ্যের অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত অনগ্রসরতার জন্য দায়ী করেন।
  • এক মাসের শাসনে দৃশ্যমান সাফল্য: সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মধ্যে গৃহীত একাধিক জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি:
    • অন্নপূর্ণা যোজনা: প্রায় ৫০ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
    • জল জীবন মিশন: ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ দ্রুততর করা হয়েছে।
    • প্রকল্পের জটমুক্তি: কলকাতা মেট্রো এবং ওয়াটার মেট্রো প্রকল্পের দীর্ঘদিনের জট খোলা হয়েছে।
    • সীমান্ত সুরক্ষা: নিরাপত্তা জোরদার করতে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান:

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বর্তমান সরকার দুর্নীতির প্রশ্নে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর পুলিশ দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। তাঁর কথায়, রাজ্যে এখন আর শাসকের নয়, বরং আইনের শাসন চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের কৌশল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভিত্তি ও অস্তিত্বকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। নির্বাচনী সংকল্পপত্রে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করার ব্যাপারে বর্তমান প্রশাসন যে বদ্ধপরিকর, তা এদিন ফের স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *