“তৃণমূলের বাবার টাকায় বেতন পান না!” কালীগঞ্জে পুলিশকে আঙুল উঁচিয়ে চরম হুঁশিয়ারি শতরূপ-সেলিমের

নদিয়ার কালীগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে তৃণমূল ও সিপিএমের দুটি মিছিল মুখোমুখি হওয়াকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। দলীয় প্রার্থী সাবিনার সমর্থনে মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও নেতা শতরূপ ঘোষ। একই সময়ে একই স্থানে তৃণমূলের মিছিল চলে আসায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই বিশৃঙ্খলার জন্য সরাসরি পুলিশি গাফিলতিকে দায়ী করে সরব হন বাম নেতারা।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন সেলিম ও শতরূপ। একই সময়ে দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলকে কেন একই রুটে অনুমতি দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। শতরূপ ঘোষ সরাসরি অভিযোগ করেন যে, স্থানীয় থানার ছাড়পত্র ছাড়া বিডিও অফিস থেকে অনুমতি পাওয়া আসাম্ভব। কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিককে লক্ষ্য করে ‘তৃণমূলের দালাল’ এবং ‘উর্দি খুলে নেওয়ার’ মতো কড়া হুঁশিয়ারি দেন বাম নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক প্রভাব ও অস্থিরতা
এই ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সিপিএম প্রার্থী সাবিনার দাবি, এই বিশৃঙ্খলা একটি পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং এর পেছনে বহিরাগতদের মদত রয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের এই ধরণের আচরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছে সিপিএম নেতৃত্ব। প্রশাসনের সঠিক সমন্বয়হীনতা যে নির্বাচনী আবহে বড় ধরণের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে, এই ঘটনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- কালীগঞ্জে তৃণমূল ও সিপিএমের মিছিল মুখোমুখি হওয়ায় চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা।
- অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য ও গাফিলতির অভিযোগে পুলিশ আধিকারিককে তোপ সেলিম-শতরূপের।
- পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি বামেদের।
- নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে রাজনৈতিক অস্থিরতায় রণক্ষেত্রের রূপ নেয় নদিয়ার কালীগঞ্জ।
