তৃণমূলের মেগা ভাঙন, বিজেপির দরবারে সায়নী-কাকলীরা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রকাশ্যেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন একাধিক সাংসদ। রবিবার বিকেলে দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের এক মেগা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, প্রসূন বন্দ্যোধ্যায় এবং সায়নী ঘোষের মতো হেভিওয়েট নেতারা।
বিদ্রোহীদের সংখ্যাবৃদ্ধি ও স্পিকারের কাছে দরবার
তৃণমূলের অন্দরে এই ভাঙন ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অন্যতম নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি অনুযায়ী, ২০ জন নয়, বরং ২২ জন তৃণমূল সাংসদ এখন তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। সোমবার তাঁরা লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের একটি পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানাবেন। ইতিপূর্বেই ১৯ জন সাংসদের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি চিঠি স্পিকারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে খবর, যেখানে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষের পৃথক স্বাক্ষরও যুক্ত হয়েছে। এই গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য হলো কেন্দ্রে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ শিবিরকে সমর্থন জোগানো।
সায়নী ঘোষের ভোলবদল ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বিদ্রোহে বিশেষ নজর কেড়েছেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। অতীতে দলের প্রতি চরম আনুগত্য দেখালেও, এদিন সম্পূর্ণ ভিন্ন অবতারে ধরা দেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, জবাব দিতে হলে তিনি কেবল তাঁর সংসদীয় এলাকার মানুষকেই দেবেন। রাজ্যে দলের শোচনীয় পরাজয় ও তৎপরবর্তী অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতাই মূলত এই গণবিদ্রোহের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই ২২ জন সাংসদ যদি সফলভাবে পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে এনডিএ-কে সমর্থন করেন, তবে তা জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় অস্তিত্বকে কার্যত নিঃশেষ করে দেবে এবং কেন্দ্রে শাসক শিবিরের শক্তি আরও মজবুত করবে।
