তৃণমূলের রোষে দেও! ‘ইয়ার জ্বলনে ওয়ালে’ পোস্ট ঘিরে উত্তাল কলকাতা!

২০২৬ নির্বাচন: সোশ্যাল মিডিয়ায় বলিউড গান ও শ্লেষাত্মক মন্তব্য করে বিতর্কে দক্ষিণ কলকাতার ডিইও
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ যখন বাড়ছে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন বিতর্কে জড়ালেন দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO)। ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বলিউড গানের লাইন এবং শ্লেষাত্মক মন্তব্য ব্যবহার করায় তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছে দ্রুত লিখিত ব্যাখ্যা তলব করেছেন।
বিতর্কের মূলে যে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ কলকাতার ডিইও-র অফিশিয়াল প্রোফাইল থেকে আমির খান ও মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত ‘দিল’ সিনেমার একটি জনপ্রিয় গানের লিঙ্ক শেয়ার করা হয়। পোস্টটিতে ‘হাম প্যায়ার করনে ওয়ালে… ইয়ার জ্বলনে ওয়ালে কো জ্বালায়েঙ্গে’—গানের এই বিশেষ লাইনটি ব্যবহৃত হয়। এর সাথে ক্যাপশনে ভোটারদের ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও, বিতর্কের সূত্রপাত হয় পরবর্তী অংশে। অপরাধী ও গুণ্ডাদের হুশিয়ারি দিতে গিয়ে সেখানে ‘বার্নল’ ও ‘বোরোলিন’ মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচন পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন আধিকারিকের এ ধরনের শ্লেষাত্মক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক ভাষা ব্যবহারের কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া ও আইনি প্রশ্ন
এই পোস্টটি নজরে আসতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সরকারি আধিকারিকের এই আচরণের বিরুদ্ধে রাজ্যের শাসকদল সরাসরি সরব হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাঝে কোনো আধিকারিক এ ধরনের বিদ্রূপাত্মক ভাষা ব্যবহার করতে পারেন না। তৃণমূলের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে:
- পোস্টটি জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ধারা ১২৩(২) অনুযায়ী ‘দুর্নীতিমূলক কাজ’-এর আওতাভুক্ত।
- এই ধরণের পোস্ট নিরপেক্ষ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
- শাসকদল দ্রুত বিতর্কিত পোস্টটি মুছে ফেলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিইও-কে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে।
কমিশনের কড়া বার্তা ও প্রশাসনিক বিশ্লেষণ
নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সাধারণত সৃজনশীলতা বজায় রাখলেও দক্ষিণ কলকাতার এই ঘটনাটি সীমা অতিক্রম করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সরকারি আধিকারিকদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার যে শপথ রয়েছে, বর্তমান পোস্টে তার প্রতিফলন না থাকাতেই কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্ত আধিকারিক কেন এই ধরণের শব্দ চয়ন করলেন এবং এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে দপ্তরে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কনডাক্ট অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কোনো আধিকারিক ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক অভিসন্ধি প্রকাশ পায় এমন কোনো মন্তব্য করতে পারেন না। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি করেছে।
এক ঝলকে
- ঘটনা: সোশ্যাল মিডিয়ায় বলিউড গান ও ‘বার্নল-বোরোলিন’-এর পরামর্শ দিয়ে বিতর্কিত পোস্ট।
- অভিযুক্ত: দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO)।
- অভিযোগ: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং অপেশাদার ও প্ররোচনামূলক আচরণের অভিযোগ এনেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
- কমিশনের পদক্ষেপ: রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা ও রিপোর্ট তলব করেছেন।
- প্রাসঙ্গিক আইন: জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ১২৩(২) ধারা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।
