তৃণমূলের সংখ্যালঘু বিধায়কদের মধ্যে ভাঙন? আইএসএফে যোগদানের দাবি নওশাদের দলের
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/08/21/naushad-siddiqui-2025-08-21-14-34-55.jpg)
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আইএসএফ (ISF) নেতৃত্বের দাবি অনুযায়ী, তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হওয়া একাধিক সংখ্যালঘু বিধায়ক এখন নওশাদ সিদ্দিকির দলে যোগ দেওয়ার জন্য যোগাযোগ শুরু করেছেন। বুধবার নতুন বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মাঝেই এই চাঞ্চল্যকর দাবি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শর্তসাপেক্ষে যোগদানের বার্তা আইএসএফ-এর
এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের ৩১ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী জয়ী হলেও তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ইতিমধ্যেই আইএসএফ-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে খবর। তবে আইএসএফ নেতৃত্ব এখনই তাঁদের ঢালাওভাবে দলে নিতে রাজি নয়। দলের এক শীর্ষনেতা জানিয়েছেন, অতীতে এই বিধায়কদের অনেকের বিরুদ্ধেই আইএসএফ কর্মীদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে। তাই সরাসরি দলে নিলে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ভুল বার্তা যেতে পারে। এই কারণে দলবদলপ্রত্যাশীদের জন্য কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে— যোগ দিতে হলে আগে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে এবং পুনরায় উপনির্বাচনে জিতে আসতে হবে।
সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত
এতদিন রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোট মূলত তৃণমূলের একচ্ছত্র দখলে থাকলেও, এবারের নির্বাচনে সেই সমীকরণে ফাটল ধরেছে। মুর্শিদাবাদে বাম-কংগ্রেসের উত্থান এবং হুমায়ুন কবীরের মতো নেতাদের নতুন দল গড়ে জয়লাভ সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। নওশাদ সিদ্দিকি জানিয়েছেন, দলবদলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের কমিটিই নেবে। তবে এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আইএসএফ যে রাজ্যে নিজেদের জনসমর্থন আরও বাড়াতে চাইছে, তা স্পষ্ট।
রাজ্য রাজনীতিতে বাড়ছে অস্বস্তি
মুর্শিদাবাদের কয়েকজন সংখ্যালঘু বিধায়কের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাক্ষাতের পর এবার আইএসএফ-এর এই দাবি তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল। গত ১৫ বছরের একাধিপত্যের পর পরাজয়ের ধাক্কায় বিদ্ধ তৃণমূলের জন্য নিজেদের জয়ী বিধায়কদের ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নব্য সরকারের শপথগ্রহণের রেশ কাটতে না কাটতেই দলবদলের এই জল্পনা বাংলার বিধানসভাকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
