তৃণমূলের ৪ বিধায়কের বাড়িতে সিআইডি, বিধানসভার সই-বিতর্কে তীব্র চাঞ্চল্য! – এবেলা

তৃণমূলের ৪ বিধায়কের বাড়িতে সিআইডি, বিধানসভার সই-বিতর্কে তীব্র চাঞ্চল্য! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভার একটি চিঠি এবং সেখানে থাকা বিধায়কদের স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। সইয়ের অসঙ্গতি খতিয়ে দেখতে তৃণমূলের চার প্রভাবশালী বিধায়কের বাড়িতে হানা দিল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (সিআইডি)। এই চার বিধায়কের তালিকায় রয়েছেন চৌরঙ্গীর নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার কুণাল ঘোষ, ক্যানিং পূর্বের বাহারুল ইসলাম এবং ডোমজুড়ের তাপস মাইতি। বিধানসভার পরিষদীয় দলের একটি চিঠিতে সইয়ের গড়মিলের অভিযোগ ঘিরেই এই তৎপরতা।

বিতর্কের সূত্রপাত এবং সিআইডি তদন্ত

ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভার পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে সচিবকে দেওয়া একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে, যেখানে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, বিধানসভার প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের সামনে তৃণমূল বিধায়কেরা যে স্বাক্ষর করেছিলেন, তার সঙ্গে পরিষদীয় দলের ওই চিঠির সইয়ের মিল নেই। এই অসঙ্গতি নিয়ে বিধানসভা কর্তৃপক্ষের তরফে হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই মামলার তদন্তভার হাতে নিয়ে সিআইডি লালবাজারের হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বৃহস্পতিবার সিআইডি-র তদন্তকারী দল চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের তালতলার বাড়িতে দু’বার যায়। সন্ধ্যায় নয়না বাড়ি ফিরলে মহিলা আধিকারিক ও একজন ভিডিওগ্রাফার-সহ সিআইডি দল তাঁর সঙ্গে কথা বলে এবং পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়। নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে অভিযোগ, চিঠিতে নাম ও তারিখ লেখার পর সই করার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় তাঁর স্বাক্ষরটি ভিন্ন রূপ নেয়। বিধায়ক অবশ্য সিআইডি-র কাছে স্বীকার করেছেন যে ওই সইটি তাঁরই। তবে পাঁচ বারের বিধায়ক হিসেবে এই ঘটনাকে অত্যন্ত আসাম্মানজনক বলে উষ্মা প্রকাশ করেছেন তিনি এবং বিষয়টি বিরোধী দলনেতাকে জানিয়েছেন।

অন্য দিকে, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতেও সিআইডি দল পৌঁছালেও সে সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তবে ফোনে যোগাযোগ করা হলে কুণাল জানান, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে তিনি নিজেই সিআইডি-র মুখোমুখি হয়ে এই বিষয়ে জবাব দিয়ে আসবেন। এই সই-বিতর্ক এবং বিধায়কদের বাড়িতে গোয়েন্দা হানা শাসক শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি বাড়াতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে পরিষদীয় দলের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।signatures-এর সত্যতা যাচাইয়ের এই আইনি প্রক্রিয়া আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় আনে কি না, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *