তৃণমূলে কি ‘বক্সী-যুগ’ শেষ? মমতার পাশে শুধুই অভিষেক! ফলপ্রকাশের আগেই বড় ইঙ্গিত কালীঘাটে

তৃণমূলে কি ‘বক্সী-যুগ’ শেষ? মমতার পাশে শুধুই অভিষেক! ফলপ্রকাশের আগেই বড় ইঙ্গিত কালীঘাটে

তৃণমূলের অন্দরমহলে ক্ষমতার সমীকরণ বদলের এক বড়সড় ইঙ্গিত মিলল বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক আগের সন্ধ্যায়। দলের জন্মলগ্ন থেকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব সামলানো সুব্রত বক্সী, যিনি রাজনৈতিক মহলে ‘বক্সীদা’ নামেই পরিচিত, তিনি যেন এখন ব্রাত্য। শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠকে তাঁর অনুপস্থিতি সেই জল্পনাকেই উসকে দিয়েছে।

বৈঠকের ফ্রেমে নেই রাজ্য সভাপতি

২০২৪-এর লোকসভা ভোটের ধাঁচেই এবারও গণনার আগে দলের প্রার্থী ও এজেন্টদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু সেই বৈঠকে ‘গাড় নীল’ ব্যাকগ্রাউন্ডের সামনে দেখা গেল কেবল মমতা ও অভিষেককে। দলের সাংগঠনিক প্রধান হিসেবে যেখানে সুব্রত বক্সীর থাকার কথা ছিল, সেখানে তাঁর অনুপস্থিতি কর্মীদের মনে নানা প্রশ্ন তুলছে। ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তাঁর শরীর ও মন—কোনোটিই ভালো নেই।

ক্ষমতা খর্ব হওয়ার ধারাবাহিকতা

সুব্রত বক্সীর ক্ষমতা খর্ব হওয়ার প্রক্রিয়াটি নতুন নয়। দ্য ওয়াল-এর রিপোর্ট অনুযায়ী:

  • প্রার্থী তালিকা: বিধানসভা ভোটের প্রার্থী তালিকা তৈরিতে তাঁর প্রায় কোনো ভূমিকাই ছিল না। তাঁর অনুগত হিসেবে পরিচিত কাউকেও তিনি টিকিট দিতে পারেননি।
  • অভিষেকের উত্থান: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর দলের সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব এখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। গত নভেম্বরে সুব্রত বক্সীকে বালিগঞ্জ আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তাতে রাজি হননি।
  • রাজ্যসভা থেকে দূরত্ব: ২০২৪-এর রাজ্যসভা ভোটেও তিনি আর দাঁড়াতে চাননি। তাঁর সুপারিশ করা নামগুলোও দলীয় স্তরে বিশেষ গুরুত্ব পায়নি।

একটি যুগের অবসান?

তৃণমূলের অন্দরের পরিস্থিতি বলছে, দলের তথাকথিত ‘বৃদ্ধতন্ত্র’ এখন অস্তাচলে। সংগঠনের সমস্ত রাশ এখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুব্রত বক্সীর রাজ্য সভাপতি পদে থাকাটা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। শনিবারের বৈঠকে তাঁর অনুপস্থিতি সেই শেষের শুরু বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মমতার ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকা নেতার এভাবে ‘ফ্রেমের বাইরে’ চলে যাওয়া এক বড়সড় পালাবদলেরই সংকেত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *