তৃণমূলে বেনজির বিদ্রোহ, অভিষেকের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্ফোরক প্রবীণ নেতা কৃষ্ণেন্দু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এবার নজিরবিহীন ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠল। লোকসভার দলনেতা হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশের জল্পনার মাঝেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তথা ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরম সমালোচনা করে তিনি দাবি করেছেন, দলের অস্তিত্ব আজ সংকটের মুখে এবং এর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী অভিষেক নিজেই। প্রবীণ এই নেতার এমন বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
দলের কর্পোরেট কালচার বনাম পুরনো নেতৃত্ব
কংগ্রেস আমল থেকে রাজনীতি করা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী দলের বর্তমান পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, দলের তথাকথিত ‘কর্পোরেট কালচার’ বা কর্পোরেট সংস্কৃতিই তৃণমূলের এই পরিণতির জন্য দায়ী। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, চোখের সামনে দলটা শেষ হয়ে যাচ্ছে। সংঘাতের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে বড় হওয়া এই নেতার দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলটিকে একটি গ্রাইন্ডিং মেশিনে ফেলে ধ্বংস করে দিয়েছেন। এর ফলে অভিষেকের নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও শেষ হয়ে গেছে এবং তাঁর এখন বিদেশে চলে যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন কৃষ্ণেন্দু। একই সঙ্গে তোলাবাজি ও সই জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ পদ বাতিল হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
সংসদীয় টিমে ভাঙন ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল কেবল বাগযুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব পড়েছে দিল্লির সংসদীয় টিমেও। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, তৃণমূলের একাধিক লোকসভা সাংসদ বর্তমানে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সমস্ত রকম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন। লোকসভার দলনেতা পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরানোর জন্য অনাস্থা প্রকাশের প্রস্তুতিও প্রায় চূড়ান্ত। অন্যদিকে, রাজ্য বিধানসভার নব্য ব্লকও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে বিধানসভার কাজকর্মের সঙ্গে অভিষেকের কোনও সম্পর্ক নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিদ্রোহের ফলে তৃণমূলের অন্দরে ‘নবীন বনাম প্রবীণ’ দ্বন্দ্ব চূড়ান্ত রূপ নিল। একাধিক সাংসদ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করায় লোকসভায় দলের শক্তি দুর্বল হতে পারে। পাশাপাশি, এই তীব্র সাংগঠনিক ফাটল আগামী দিনে দলের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি করল।
