“তৃণমূল করা কি এখন অপরাধ?” কর্মী খুনে মোদী-শাহকে সরাসরি নিশানা অভিষেকের – এবেলা

“তৃণমূল করা কি এখন অপরাধ?” কর্মী খুনে মোদী-শাহকে সরাসরি নিশানা অভিষেকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ঘাসফুল শিবিরের কর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ তুলে সরব হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি সপ্তগ্রামের সোমনাথ আচার্য এবং চাকদহের তপন শিকদার নামে দুই সক্রিয় তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিজেপির ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’র বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে সোচ্চার হয়ে অভিষেক প্রশ্ন তুলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলায় তৃণমূল করা কি হিংসা ও মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানানো?

বিজেপি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিজেপির মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীদের হাতে নৃশংসভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন ওই দুই কর্মী। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি জানান, বিচার চেয়ে করা চিৎকার প্রশাসনের কানে পৌঁছাচ্ছে না। তাঁর দাবি, যখন রাজ্যে বিরোধীদের ওপর আক্রমণ চলছে, তখন পুলিশ নিষ্ক্রিয় এবং আদালত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এমনকি দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব এই চরম অরাজকতা নিয়ে উদাসীন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অস্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ও প্রভাব

রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে ‘ডবল ইঞ্জিন ডিজাস্টার’ হিসেবে অভিহিত করে অভিষেক দাবি করেছেন, জনমানসে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই বিজেপি ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতি করছে। খেজুরিতে দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে কর্মীদের প্রাণহানি—প্রতিটি ঘটনার নেপথ্যে পরিকল্পিত প্রতিহিংসা কাজ করছে বলে মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক রদবদল ও ধরপাকড়ের আবহে ‘আক্রান্ত’ তকমা কাজে লাগিয়ে একদিকে যেমন দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে চাইছেন অভিষেক, তেমনই জাতীয় স্তরে বিজেপি সরকারের ওপর নৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছেন তিনি। এই সংঘাতের ফলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *