তৃণমূল দম্পতির ত্রাতা বিকাশ, কড়া ভাষায় বিঁধলেন কল্যাণ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আয়বহির্ভূত সম্পত্তির মামলায় আগাম জামিন না মিললেও কলকাতা হাইকোর্টে নিজেদের মামলায় সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে দাঁড় করিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ তৃণমূল দম্পতির হয়ে সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ আদালতে সওয়াল করায় যেমন ক্ষুব্ধ ঘাসফুল শিবিরের নিচুতলার কর্মীরা, তেমনই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খোদ আলিমুদ্দিনের অন্দরেও প্রবল অস্বস্তি শুরু হয়েছে। এই আবহেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাম না করে বিকাশবাবুকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে কল্যাণবাবু তীব্র কটাক্ষ করে লিখেছেন, একজন অভিজ্ঞ বর্ষীয়ান আইনজীবী, যিনি নিজেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যোদ্ধা বলে দাবি করেন, তিনি একজন প্রাক্তন বিধায়ক এবং তাঁর স্বামীর হয়ে আদালতে লড়াই করছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। শ্রীরামপুরের সাংসদের যুক্তি, যে আইনজীবী আদালতে দাঁড়িয়ে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সওয়াল করেন, অন্ততপক্ষে এই ধরনের চরম স্ববিরোধী ভূমিকার কারণে ভবিষ্যতে তাঁর অন্য কোনও দুর্নীতির তদন্তের দাবি তোলা থেকে বিরত থাকা উচিত।
পেশাগত দায়বদ্ধতা বনাম রাজনৈতিক সমঝোতার অভিযোগ
কল্যাণবাবুর এই আক্রমণের জবাবে নিজের পেশাগত অবস্থানকেই ঢাল করেছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, তিনি পেশায় একজন আইনজীবী এবং আদালতের চৌহদ্দিতে তাঁর কাছে মক্কেলের রাজনৈতিক পরিচয় বা আদর্শ কোনও গুরুত্ব বহন করে না। সেই পেশাগত দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি দেবরাজ-অদিতির মামলায় হাইকোর্টের এজলাসে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেছেন। নিজের যুক্তির সপক্ষে এক বিখ্যাত মার্কিন আইনজীবীর প্রসঙ্গ টেনে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টও করেন বিকাশ।
তবে তাঁর এই যুক্তিকে নস্যাৎ করে কল্যাণের পাল্টা খোঁচা, পেশাগত দায়িত্বকে সবসময় ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। বিশেষ করে যখন একই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত অন্য পক্ষকে আড়াল করে, শুধু এক পক্ষকেই বেছে বেছে নিশানা করা হয়। এই গোটা ঘটনাপ্রবাহের নেপথ্যে বিজেপি এবং সিপিএমের মধ্যে কোনও গোপন political সমঝোতা রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলে দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিব্রত আলিমুদ্দিনের নিচুতলা
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিপিএমের অন্দরেও ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দলের নিচুতলার কর্মীদের একাংশের প্রশ্ন, এতদিন ধরে তৃণমূল সরকারের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে কংগ্রেস নেতা কপিল সিবালের সওয়াল করা নিয়ে তাঁরা রাজনৈতিক ময়দানে লাগাতার প্রশ্ন তুলে এসেছেন। কিন্তু এখন খোদ তাঁদেরই এক শীর্ষস্থানীয় নেতা যখন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের আইনি রক্ষাকবচ দিতে লড়াইয়ে নামছেন, তখন সাধারণ মানুষের কাছে তাঁরা কোন মুখে দাঁড়াবেন? পেশার দোহাই দিয়ে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের এই ভূমিকা যে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের একাংশকেও চরম ক্ষুব্ধ ও বিব্রত করেছে, তা দলের অন্দরের ফিসফাস থেকেই স্পষ্ট। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা আগামী দিনে বিরোধী শিবিরের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনকে নৈতিকভাবে কিছুটা দুর্বল করতে পারে।
