তৃণমূল নয়, এবার ইডির স্ক্যানারে বিজেপি নেতা! বাগদায় হানা কেন্দ্রীয় এজেন্সির, নেপথ্যে কোন রহস্য? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে ইডি-সিবিআই হানা মানেই সাধারণত তৃণমূল নেতাদের নাম উঠে আসে। কিন্তু এবার ঘটল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। বৃহস্পতিবার সাতসকালে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায় এক বিজেপি নেতার বাড়িতে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মানব পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহেই এই তল্লাশি বলে প্রাথমিক অনুমান।
পলাতক বিজেপি নেতা: বাগদার গাঙ্গুলিয়া এলাকায় বিজেপি নেতা বিক্রম রায়ের বাড়িতে এদিন সকাল ৭টা নাগাদ কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে পৌঁছন ইডির আধিকারিকরা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইডি পৌঁছনোর আগেই বেপাত্তা হয়ে যান ওই নেতা! পরিবারের দাবি, তিনি কোথায় আছেন সে সম্পর্কে তাঁরা কিছুই জানেন না।
টোটো চালক থেকে মানব পাচার চক্রের পাণ্ডা! স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্রম রায়ের উত্থান রূপকথার মতো। একসময় এলাকায় টোটো চালাতেন তিনি। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে মারাত্মক সব অভিযোগ ওঠে। টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে নিয়ে আসা এবং তাঁদের জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেওয়ার মতো আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে তাঁর নাম। এই চক্রের শিকড় ছড়িয়ে ছিল লখনউ থেকে মুম্বই পর্যন্ত। এই অপরাধে ২০২৪ সালে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের গুন্ডাদমন শাখার হাতে গ্রেফতারও হন তিনি।
ভোটের মুখে রহস্যময় অন্তর্ধান: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গ্রামে ফেরেন বিক্রম। যোগ দেন বিজেপির প্রচারের কাজে। বর্তমানে তিনি এক আইনজীবীর মুহুরি হিসেবে কাজ করছিলেন। পুরনো সেই মানব পাচার মামলার সূত্র ধরেই আজ ইডির এই আচমকা হানা কি না, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি।
আপাতত কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় চলছে তল্লাশি। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাগদার রাজ্যনীতিতে এখন তুমুল শোরগোল।
