তৃণমূল নেতার রাজপ্রাসাদে এনআইএ হানা, ছেলে আটক হলেও বেপাত্তা শওকত মোল্লা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভোটের আগে ভাঙড়ের বামুনিয়ায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে নেমে এবার তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। বৃহস্পতিবার দিনভর তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার জীবনতলার বিলাসবহুল বাড়ি সহ ভাঙড়ের একাধিক এলাকায় ম্যারাথন তল্লাশি চালাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। এই অভিযানে শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লাকে কেন্দ্রীয় সংস্থা আটক করলেও, খোদ তৃণমূল নেতার কোনো হদিশ মেলেনি। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক বলে মনে করা হচ্ছে। তল্লাশি অভিযান চলাকালীন শওকতের স্ত্রী ও মেয়েকে তাঁদের নিজেদের ‘রাজপ্রাসাদ’ সমান বাড়িতে ঢুকতে না দিয়ে গেটের বাইরেই আটকে রাখে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
একাধিক এলাকায় তল্লাশি ও ছেলে আটক
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভাঙড় ও জীবনতলার বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে অভিযান শুরু করেন এনআইএ আধিকারিকরা। চারদিকে ভেরি ঘেরা এলাকায় শওকত মোল্লার ছেলে ইমরানের একটি ঝাঁ চকচকে ক্যাফে রয়েছে, যার নাম ‘অরণ্যকূল’। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী ভরাট করে বেআইনিভাবে এই ক্যাফে নির্মাণ করা হয়েছে। ছেলে ইমরানকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে সেখানে যান আধিকারিকরা এবং দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে আটক করা হয়। এর পাশাপাশি ভাঙড় থানার নলমুড়ি এলাকায় এক অ্যাম্বুল্যান্স চালকের বাড়ি এবং উত্তর কাশীপুর থানার রঘুনাথপুর গ্রামে বোমা বাঁধার অভিযোগে অভিযুক্ত এক যুবকের বাড়িতেও হানা দেয় কেন্দ্রীয় দল। এই বিস্ফোরণ ও বোমা বাঁধার ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ড হিসেবে অহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করার পর তদন্তকারীরা বিজয়গঞ্জ বাজার থানায় পৌঁছান।
বাড়ির বাইরেই আটকে রইলেন স্ত্রী ও মেয়ে
অভিযান চলাকালীন শওকত মোল্লার জীবনতলার পেল্লায় বাড়ির সামনে এসে পৌঁছান তাঁর স্ত্রী সায়ের বানু এবং মেয়ে শাবানা। তবে বাড়িতে প্রবেশ করতে গেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ওপরের নির্দেশ অনুযায়ী তল্লাশি চলাকালীন কেউ ভেতরে ঢুকতে বা বাইরে বের হতে পারবেন না। দীর্ঘক্ষণ গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার পর বাধ্য হয়ে তাঁরা গাড়িতেই অপেক্ষা করেন। শওকতের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তাঁর স্ত্রী দাবি করেন, তিনি অসুস্থতার কারণে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন এবং শওকত কোথায় আছেন তা তিনি জানেন না। মেয়ে শাবানাও জানান, তাঁর বাবা গতদিন থেকে বাড়িতে নেই এবং এনআইএ অভিযানের বিষয়ে তাঁদের আগে থেকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।
সম্পত্তির খতিয়ান ও ক্ষোভ
তৃণমূল নেতার এই বিশাল সম্পত্তি নিয়ে ইতিমধ্যেই স্থানীয় স্তরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাছ চুরি এবং বেআইনিভাবে নদী ও জমি দখল করে এই বিপুল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন শওকত। নির্বাচনী হলফনামা ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, শওকত ও তাঁর স্ত্রীর নামে কয়েক একর চাষের জমি, বিপুল পরিমাণ সোনাদানা এবং অগাধ সম্পত্তি রয়েছে। বর্তমানে তিনি যে বিলাসবহুল বাড়িতে থাকেন, তার বাজারমূল্যই কয়েক লক্ষ টাকা।
বামুনিয়া বিস্ফোরণ কাণ্ডে এনআইএ-র এই সাঁড়াশি অভিযানের ফলে ভাঙড়ের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মূল অভিযুক্তদের সন্ধান এবং উদ্ধার হওয়া নথিপত্রের ভিত্তিতে আগামী দিনে এই তদন্ত কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
