তৃণমূল নেতা ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর, অভিযোগের তির বিজেপির দিকে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
হুগলির উত্তরপাড়ায় এক তৃণমূল কাউন্সিলর এবং তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার রাতের এই ঘটনায় রাস্তায় ফেলে মারধরের পাশাপাশি ‘ডিম থেরাপি’-র অভিযোগও উঠেছে। আক্রান্ত তৃণমূল নেতা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পরিকল্পিত হামলা নাকি অন্তর্দ্বন্দ্ব
উত্তরপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অর্ণব রায়ের পার্টি অফিস কয়েকদিন আগেই বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। শনিবার রাতে ওই এলাকাতেই বসেছিলেন তিনি। অভিযোগ, সেই সময় ৩০-৪০ জনের একটি দল বাইকে এসে তাঁকে ঘিরে ধরে এবং রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে। এমনকি তাঁর দিকে ডিমও ছোড়া হয়। স্বামীকে বাঁচাতে ছুটে এলে তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকেও অর্পিতা রায় নামে এক মহিলা লাথি মারেন বলে অভিযোগ। ছেলের চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন কাউন্সিলরের মা সন্ধ্যা রায়। পরে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত তৃণমূল নেতা।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই হামলার ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করেছেন কাউন্সিলর অর্ণব রায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির গৌতম মাজি এবং অর্পিতা রায় এই দুষ্কর্মে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ছেলের প্রাণরক্ষার পর মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আবেদন জানিয়েছেন সন্ধ্যা দেবী। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে। অভিযুক্ত বিজেপি নেতার দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিতই ছিলেন না। তাঁর পালটা দাবি, এই ঘটনা আদতে জনরোষ অথবা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীকোন্দলের পরিণতি।
জনপ্রতিনিধি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ওপর এমন প্রকাশ্য হামলার ঘটনায় এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সদ্য পার্টি অফিস ভাঙা এবং তার পরপরই এই হামলার ঘটনা প্রমাণ করে যে ওই অঞ্চলে রাজনৈতিক রেষারেষি চরমে পৌঁছেছে। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না করলে আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই দ্বন্দ্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে।
