‘তৃণমূল পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে!’ গণনার আগে শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যে উত্তাল রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভোটগণনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। গণনা প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের অংশগ্রহণের দাবিতে তৃণমূলের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে হাতিয়ার করে তিনি দাবি করেন, এই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই স্পষ্ট যে তৃণমূল কার্যত নিজেদের হার মেনে নিয়েছে। শমীকবাবুর মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিয়ে তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
শ্বেতপত্র প্রকাশের হুঁশিয়ারি ও সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, আইনি লড়াইয়ের নামে তৃণমূল সাধারণ মানুষের বিপুল টাকা খরচ করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, গত কয়েক বছরে হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নামী আইনজীবীদের পিছনে শাসকদল কত টাকা খরচ করেছে, আগামী ৬ মাসের মধ্যে বিজেপি তার একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে। উল্লেখ্য, গণনায় শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগের কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল তৃণমূল। তবে শীর্ষ আদালত কোনো বিশেষ নির্দেশ দিতে অস্বীকার করে কমিশনের সার্কুলারেই সবুজ সংকেত দেয়।
পাল্টা আক্রমণ কুণাল ঘোষের
বিজেপির এই আক্রমণের কড়া জবাব দিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি পালটা অভিযোগ করেন, বিজেপি আসলে গণনা প্রক্রিয়ায় কারচুপি করার ছক কষছে এবং সেই কারণেই কেন্দ্রীয় কর্মীদের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা দেখাচ্ছে। কুণালবাবুর দাবি, ৪ মে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল জয় হাসিল করবে এবং বিজেপিই আসলে আতঙ্কে আবোল-তাবোল বলছে।
ফলতায় চাপা উত্তেজনা ও কড়া নিরাপত্তা
অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় পরিস্থিতি এখনও থমথমে। তৃণমূল ক্যাডারদের বিরুদ্ধে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে রবিবার সকালেও বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় সিআরপিএফ (CRPF) ও র্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফলতায় আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচন হবে, যার ফলাফল জানা যাবে ২৪ মে। তবে বাকি ২৯৩টি আসনের ভাগ্য নির্ধারণ হবে আগামীকাল সোমবার। সব মিলিয়ে, গণনার আগের দিন রাজ্যজুড়ে স্নায়ুর লড়াই তুঙ্গে।
