তেলের ব্যবহার কমান, এখনই কিনবেন না সোনা! অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় দেশবাসীর কাছে আর্জি প্রধানমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতি আর পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আঁচ এবার ভারতের বাজারেও লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে দেশবাসীকে মিতব্যয়ী হওয়ার বিশেষ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত সোমবার গুজরাতের ভদোদরায় এক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে প্রতিটি নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
জ্বালানি সাশ্রয় ও ডিজিটাল কর্মসংস্কৃতিতে জোর
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি সাশ্রয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দেশবাসীকে পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন, মেট্রো এবং ইলেকট্রিক বাস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে ‘কারপুলিং’ বা একই গাড়িতে একাধিক যাত্রী যাতায়াতের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি তিনি সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রের নিয়োগকর্তাদের প্রতি এক বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। মোদীর মতে, মহামারীর সময়ে আমরা যে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজের সংস্কৃতি গড়ে তুলেছিলাম, বর্তমান সংকটে তা পুনরায় ফিরিয়ে আনা জরুরি। ভার্চুয়াল মিটিংয়ের মাধ্যমে যাতায়াত কমিয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করলে জ্বালানি আমদানিতে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
বিদেশি মোহ ত্যাগ ও দেশীয় পণ্যে আস্থা
ভারতের অর্থনীতির ওপর থেকে চাপের বোঝা কমাতে অপ্রয়োজনীয় বৈদেশিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে সোনা আমদানিতে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সোনা কেনা স্থগিত রাখার অনুরোধ করেন। একইসঙ্গে ‘ভোকাল ফর লোকাল’ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আমদানিকৃত পণ্যের বদলে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের ডাক দিয়েছেন। বিদেশ ভ্রমণের প্রবণতা এবং ইদানীংকালে বাড়তে থাকা ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ বা বিদেশে গিয়ে বিয়ে করার রীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ছুটি কাটানো বা বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বিদেশের বদলে ভারতের পর্যটন কেন্দ্রগুলোকেই বেছে নেওয়া উচিত। এতে দেশের অর্থ যেমন দেশেই থাকবে, তেমনই স্থানীয় ব্যবসাগুলোও সমৃদ্ধ হবে।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আগাম সতর্কতা
পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভারত যেহেতু তার জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আমদানির ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল, তাই এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে মুদ্রাস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে টান পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী সতর্কতা মূলত দেশের অর্থনীতিকে এক বড়সড় ধাক্কা থেকে রক্ষা করার আগাম প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশবাসীকে মিতব্যয়ী হওয়ার এই ডাক দিয়ে তিনি আসলে বৈশ্বিক সংকটের মুখে ভারতকে স্বনির্ভর ও সুরক্ষিত রাখার পথ প্রশস্ত করতে চাইছেন।
