তেলের মহাসাগরে ডুবছে ইরান, ট্রাম্পের রণতরীর চক্রব্যূহে কি ধ্বংস হবে দেশটির অর্থনীতি? – এবেলা

তেলের মহাসাগরে ডুবছে ইরান, ট্রাম্পের রণতরীর চক্রব্যূহে কি ধ্বংস হবে দেশটির অর্থনীতি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধ নয়, মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়েছে এক ভিন্নধর্মী ‘তেল যুদ্ধ’। বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা থাকলেও তেলের পাহাড় নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া নির্দেশে হরমুজ প্রণালীতে তৈরি হওয়া অভূতপূর্ব অবরোধে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছে তেহরান। মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী—ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন, ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড এবং ইউএসএস জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ—একযোগে মোতায়েন করায় মধ্যপ্রাচ্যে এক বিশাল সামরিক বেষ্টনী তৈরি হয়েছে। এই ত্রিভুজ চক্রব্যূহ এড়িয়ে ইরানের কোনো তেলবাহী ট্যাঙ্কার এখন আর আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে পারছে না।

অবরুদ্ধ রপ্তানি পথ ও মজুত সংকট

ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই সম্পন্ন হয় খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে, যা এখন পুরোপুরি মার্কিন নজরদারিতে। রপ্তানি বন্ধ থাকলেও উৎপাদন সচল থাকায় দেশটির স্টোরেজ ট্যাঙ্কগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরান তাদের পুরনো ও পরিত্যক্ত ট্যাঙ্কারগুলোকে সমুদ্রে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই অস্থায়ী ব্যবস্থায় মাত্র কয়েক দিনের অতিরিক্ত তেল রাখা সম্ভব। ইতিমধ্যে ৩৪টিরও বেশি জাহাজকে পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে মার্কিন নৌবাহিনী, যা তেহরানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডকে সরাসরি আঘাত করছে।

স্থায়ী ক্ষতির মুখে তেলকূপ ও অর্থনীতি

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, মজুত ক্ষমতা ফুরিয়ে গেলে ইরান বাধ্য হয়ে তাদের তেলের কূপগুলো বন্ধ করে দেবে। মাটির নিচের ভূ-তাত্ত্বিক চাপের কারণে একবার দীর্ঘমেয়াদে কূপ বন্ধ করলে তার উৎপাদন ক্ষমতা স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে এই অবরোধ কেবল বর্তমান আয় বন্ধ করছে না, বরং আগামী কয়েক দশকের জন্য ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। মার্কিন স্যাটেলাইট ও ড্রোন প্রযুক্তির কারণে ইরানের ‘শ্যাডো ট্রেড’ বা পরিচয় গোপন করে তেল বিক্রির চেষ্টাও ব্যর্থ হচ্ছে। এই ‘অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ’ নীতি তেহরানকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এক ঝলকে

  • মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি রণতরীর কড়া অবরোধে ইরানের তেল রপ্তানি পুরোপুরি থমকে গেছে।
  • স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় পরিত্যক্ত জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান।
  • উৎপাদন বন্ধ হলে ভূ-তাত্ত্বিক চাপে তেলের কূপগুলোর স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
  • স্যাটেলাইট নজরদারির কারণে পরিচয় গোপন করে তেল বিক্রির গোপন চেষ্টাও ব্যর্থ হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *