তোকে তো দেখে নেব! এমন এক ভয়াবহ ঝোড়ো হাওয়া যা দুই বন্ধুর জীবন তছনছ করে দিল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম দিল্লির মোহন গার্ডেন এলাকায় গভীর রাতে খোদ বন্ধুর হাতে প্রাণ হারালেন এক ব্যক্তি। তুচ্ছ বিবাদ থেকে শুরু হওয়া ঝগড়া যে এমন নৃশংস রূপ নেবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি প্রত্যক্ষদর্শীরা। গত ৭ এবং ৮ জুলাইয়ের মধ্যবর্তী রাতে ঘটা এই হত্যাকাণ্ডে পুলিশ মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও পুরনো শত্রুতা
তদন্তে জানা গেছে, গত ২ জুলাই গৌতম নামের এক বন্ধুর সঙ্গে সন্দীপ তিওয়ারি এবং সিপত্তর সিং উজ্জয়িনী ভ্রমণে গিয়েছিলেন। ৪ জুলাই তারা দিল্লি ফিরে আসেন। আপাতদৃষ্টিতে তাদের বন্ধুত্ব স্বাভাবিক মনে হলেও, ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। ঘটনার দিন অর্থাৎ ৭ জুলাই রাত ১১টা নাগাদ সন্দীপ ও রাজেশ নামের দুই বন্ধু গৌতমের বাড়িতে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন সিপত্তর সিং।
সেখানে সিপত্তর ও সন্দীপের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। উপস্থিত বন্ধুরা মিলে পরিস্থিতি শান্ত করে সিপত্তরকে সেখান থেকে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু বিবাদ সেখানেই মেটেনি।
অতর্কিত হামলা ও মৃত্যু
প্রথমবার চলে যাওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় রাত সোয়া ১১টা নাগাদ হাতে ধারালো ছুরি নিয়ে ফিরে আসেন সিপত্তর। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি ৫৫ বছর বয়সী সন্দীপ তিওয়ারির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর জখম অবস্থায় সন্দীপকে উদ্ধার করে দীনদয়াল উপাধ্যায় (DDU) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের বিশেষ অভিযান ও গ্রেফতারি
ঘটনার পর পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) ধারায় খুনের মামলা রুজু করে। ইন্সপেক্টর মুকেশ আন্তিলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। অভিযুক্ত সিপত্তর ওরফে রাজু ক্রমাগত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। পুলিশি তদন্তে যা উঠে এসেছে:
লোকেশন ট্র্যাকিং: অভিযুক্ত মোবাইল বন্ধ করে কখনও উত্তরপ্রদেশের বেরেলি, কখনও বদায়ুঁতে আত্মগোপন করছিলেন।
হরিদ্বার থেকে গ্রেফতার: সবশেষে তার লোকেশন হরিদ্বারে শনাক্ত করা হয় এবং সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ।
অস্ত্র উদ্ধার: জেরায় অভিযুক্ত নিজের অপরাধ কবুল করেছেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুনে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।
এক ঝলকে
ঘটনার স্থান: মোহন গার্ডেন এলাকা, পশ্চিম দিল্লি।
মৃতের পরিচয়: সন্দীপ তিওয়ারি (৫৫ বছর)।
অভিযুক্ত: সিপত্তর ওরফে রাজু (২৮ বছর)।
কারণ: উজ্জয়িনী ভ্রমণ ফেরত বন্ধুদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কলহ ও রাগের বশবর্তী হয়ে হামলা।
পুলিশি পদক্ষেপ: খুনের মামলা দায়ের এবং হরিদ্বার থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার।
