তোলাবাজির কোটি টাকার ‘গ্যালাক্সি’ হাতছাড়া, অবশেষে শ্রীঘরে দাপুটে পঞ্চায়েত উপপ্রধান! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
এলাকায় তাঁর পরিচিতি ছিল দাপুটে নেতা হিসেবে, হাবেভাবে চলতেন সুপারস্টারের মতো। ক্ষমতার অপব্যবহার, হুমকি এবং লাগাতার তোলাবাজির টাকায় গড়ে তুলেছিলেন কয়েক কোটি টাকার প্রাসাদোপম আবাসন ‘পি গ্যালাক্সি হাউস’। তবে বিধানসভা নির্বাচনের রাজনৈতিক পালাবদলের পর আর শেষরক্ষা হলো না। তোলাবাজি ও হুমকির দীর্ঘদিনের গুরুতর অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন খড়দহের বন্দিপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রসেনজিৎ সাহা। রহড়া থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ক্ষমতার দাপট ও অপরাধের সাম্রাজ্য
দীর্ঘদিন ধরেই বন্দিপুর এলাকায় প্রসেনজিতের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া এবং জোরপূর্বক টাকা আদায়ের ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠছিল। পঞ্চায়েতের উপপ্রধান পদের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় কার্যত একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছিলেন তিনি। শুধু তোলাবাজিই নয়, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের দু’ধারে থাকা বিস্তীর্ণ জলাজমি বেআইনিভাবে ভরাট করে তা চড়া দামে বিক্রি করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। নির্বাচনের আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে সতর্ক করা হলেও তিনি নিজের দুষ্কৃতীমূলক কাজকর্ম চালিয়ে যান। গত ২৯ এপ্রিল খড়দহে ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁর বিলাসবহুল ‘গ্যালাক্সি’ বাড়িতে তল্লাশি চালালেও তখন তিনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন।
চোখ ধাঁধানো প্রাসাদ ও রাজনৈতিক প্রভাব
প্রসেনজিতের গ্রেপ্তানির পর বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে তাঁর তৈরি ‘পি গ্যালাক্সি হাউস’। সাততারা হোটেলকেও হার মানানো এই প্রাসাদের অন্দরমহল দামি কাঠের আসবাবপত্র ও অত্যন্ত শৌখিন সামগ্রী দিয়ে সাজানো। স্থানীয়দের দাবি, সাধারণ মানুষের থেকে তোলাবাজি করা কোটি কোটি অবৈধ টাকায় ধীরে ধীরে এই বিলাসবহুল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন তিনি। রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাবে এতদিন তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেই পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পায় এবং এই অবৈধ সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। এই গ্রেপ্তারি খড়দহ ও সংলগ্ন অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি অন্যান্য দুষ্কৃতীদের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
