ত্রাণ চুরির অভিযোগে রণক্ষেত্র মথুরাপুর, শুভেন্দু সরকারের অভিযানে গ্রেফতার প্রাক্তন বিধায়ক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ বাপি হালদারের কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ সাধারণের মধ্যে বণ্টন না করে দলীয় কার্যালয়ে মজুত করে রাখার অভিযোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ব্যাপক ভাঙচুর চালায় সাংসদের অফিসে। রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর দুর্নীতি ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কড়া পদক্ষেপের আবহেই এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে।
মথুরাপুরে চরম উত্তেজনা ও জনরোষ
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য আসা শত শত কার্টন ও বাক্সভর্তি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ না করে সাংসদ বাপি হালদারের অফিসে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই খবর জানাজানি হতেই ক্ষিপ্ত জনতা সাংসদের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন এবং ভেতরে প্রবেশ করে মজুত থাকা ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার শুরু করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বিক্ষুব্ধ জনতা অফিসের একাংশে ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীতে মথুরাপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
আইনি তৎপরতা ও প্রাক্তন বিধায়ক গ্রেফতার
ত্রাণসামগ্রী আত্মসাতের এই ঘটনার সমান্তরালে পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রে বড়সড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। সরকারি সম্পত্তি চুরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ওই কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়কে। পূর্বস্থলী থানার পুলিশ তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২৭৫টি ত্রাণের ত্রিপল, ২০টি ফুটবল এবং ১৪টি ভলিবল উদ্ধার করে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহারায় থাকা প্রাক্তন এই বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান।
রাজনৈতিক পটভূমি ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিরোধী আসনে থাকাকালীন বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে আমজনতার ত্রাণসামগ্রী আত্মসাৎ ও কালোবাজারির অভিযোগ তুলে আসছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শুভেন্দু অধিকারীর সরকার সেই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমনে কড়া নীতি গ্রহণ করেছে। মথুরাপুরের জনরোষ এবং পূর্বস্থলীতে প্রাক্তন বিধায়কের গ্রেফতারি সেই প্রশাসনিক তৎপরতারই প্রতিফলন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কারণে আগামী দিনে তৃণমূলের আরও অনেক নেতানেত্রীর ওপর আইনি চাপ বাড়বে, যার ফলে রাজ্য রাজনীতিতে দলটির উপর চাপ আরও বহু গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
