থামছে আমেরিকা ও ইরান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালী খুললেও দেশের বাজারে কতটা কমবে জ্বালানির দাম? – এবেলা

থামছে আমেরিকা ও ইরান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালী খুললেও দেশের বাজারে কতটা কমবে জ্বালানির দাম? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দীর্ঘ ১০০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর অবশেষে অবসান ঘটতে চলেছে আমেরিকা ও ইরান যুদ্ধের। দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর বিশ্বের অন্যতম প্রধান ‘তৈল ধমনী’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক জলপথে জ্বালানিবোঝাই জাহাজের যাতায়াত সুগম হতে চলেছে, যা বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া তীব্র জ্বালানি সংকট কাটাতে বড় ভূমিকা রাখবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-যান চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংকটের পটভূমি ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার এই যুদ্ধের জেরে গত কয়েক মাসে বিশ্ববাজারে হুহু করে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। যার সরাসরি ধাক্কা এসে লেগেছিল ভারতের বাজারেও। দেশের সাধারণ নির্বাচনের আগে পর্যন্ত সরকার তেলের দামে লাগাম টেনে রাখলেও, এর ফলে অভ্যন্তরীণ তেল বিপণন সংস্থাগুলি বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। পরবর্তীতে সেই ক্ষতিপূরণ এবং তেল সংস্থাগুলির ক্রমবর্ধমান চাপে দেশজুড়ে দফায় দফায় পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়। জ্বালানির এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে পরিবহণ খরচ বাড়ার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

হরমুজ খুললেও দেশের বাজারে স্বস্তির সংশয়

হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবার নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিশ্ববাজারে দাম কমলেও ভারতের সাধারণ মানুষের বড় কোনো স্বস্তি মেলার সম্ভাবনা এখনই নেই। যুদ্ধের আগের মূল্যে পেট্রল-ডিজেল ফিরে পাওয়ার আশা ক্ষীণ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ধরে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলার বা তার নিচে অবস্থান করে, তবেই ভারতের বাজারে লিটারপ্রতি সর্বোচ্চ ৩ টাকা পর্যন্ত দাম কমতে পারে। এছাড়া রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রেও দাম কমার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তবে এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলির দীর্ঘদিনের লোকসান মিটে যাবে এবং আগামী দিনে নতুন করে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি, যুদ্ধের সংকটকালে ভারত অন্যান্য বিকল্প দেশ থেকে তেল আমদানি শুরু করায় হরমুজ প্রণালীর ওপর দেশের একক নির্ভরতাও আগের চেয়ে অনেকখানি হ্রাস পেয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *