দলবাজি মুক্ত সুস্থ বিনোদন জগৎ, টলিপাড়ায় এবার শুধুই মেধার জয়গান রূপার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিনোদন জগতেও এবার পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে টলিউডের অন্দরে জেঁকে বসা রাজনৈতিক একাধিপত্য ও দাদাগিরির অবসান ঘটিয়ে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক রঙের ঊর্ধ্বে উঠে শুধু যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ এবং ভালো ছবিকে নন্দনে জায়গা করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ময়দানে নেমেছেন শিল্পীরা। রাজ্য প্রশাসনের সদিচ্ছায় টলিপাড়া এখন সিন্ডিকেট ও দালালমুক্ত এক নতুন দিশার সন্ধান করছে।
নন্দন এখন দলবাজি মুক্ত, ফিরছে পুরোনো ঐতিহ্য
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে নন্দনের পর্দায় মুক্তি পেয়েছে ‘প্রত্যাবর্তন’ এবং ‘একাডেমী অফ ফাইন আর্টস’ ছবি দুটি। অতীতে নানা রাজনৈতিক জটিলতায় আটকে থাকা এই ছবিগুলোর মুক্তি টলিউডের নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমান নন্দনের রূপ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও বিধায়ক রূপা গাঙ্গুলী জানান, নন্দন চত্বর এখন রাজনৈতিক নেতার পোস্টার মুক্ত হয়ে শুধু সিনেমার পোস্টারে সেজে উঠেছে। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির গৌরবময় দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে তিনি সমস্ত অভিনেতা, অভিনেত্রী এবং পরিচালকদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সিন্ডিকেট রাজের অবসান ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
ইন্ডাস্ট্রিকে সুস্থ রূপ দিতে রূপা গাঙ্গুলী, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরন্ময় চট্টোপাধ্যায় এবং পাপিয়া অধিকারীর মতো অভিজ্ঞ শিল্পীদের ওপর গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। সিনেমার গুণগত মান ও মেধার ভিত্তিতেই এখন থেকে নন্দনসহ রাজ্যের সমস্ত প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা প্রদর্শনের সুযোগ মিলবে। এক বা দুই সপ্তাহ পর জোরজুলুম করে ছবি নামিয়ে দেওয়া বা রাজনৈতিক রঙের সুবিধা নেওয়ার দিন শেষ হতে চলেছে। একইভাবে থিয়েটারের ক্ষেত্রেও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই কঠোর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে টলিউডে প্রতিভাবান নতুন শিল্পী ও পরিচালকদের কাজের পরিধি বাড়বে এবং বাংলা সিনেমার হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
