‘দলের নির্দেশেই কাটমানি!’ জনরোষের মুখে আবাসের টাকা ফেরালেন ৩ তৃণমূল নেতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কোচবিহার: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। এবার প্রবল জনরোষের মুখে পড়ে আবাস যোজনার ‘কাটমানি’ ফেরত দিতে বাধ্য হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের তিন স্থানীয় নেতা। আর টাকা ফেরত দেওয়ার সময় তাঁদের বিস্ফোরক দাবি— “দলের নির্দেশেই টাকা তুলেছিলাম!” কোচবিহারের এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়েছে।
কোথায় এবং কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?
কোচবিহারের শীতলকুচি ব্লকের ভাঐয়ের গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৯৪ নম্বর বুথ এলাকার ছোট বাংডাকি গ্রামে এই দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সরকারি ‘আবাস যোজনা’র ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্থানীয় তিন তৃণমূল নেতা— মনোজ অধিকারী, উত্তম বর্মন এবং ক্ষিতীশ দেব শর্মা— সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন।
জনতার চাপে পিছু হটলেন নেতারা:
- মাথাপিছু কাটমানি: স্থানীয়দের দাবি, গৃহনির্মাণের সুবিধার বিনিময়ে ঘর প্রতি ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা করে আদায় করেছিলেন ওই তিন নেতা।
- টাকা ফেরত: সম্প্রতি গ্রামবাসীদের ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করলে, বাধ্য হয়ে ওই নেতারা স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দাকে মোট প্রায় ৯০,০০০ টাকা ফেরত দিয়েছেন।
- এর মধ্যে তৃণমূল নেতা ক্ষিতীশ দেব শর্মার ছেলে অক্ষয় দেব শর্মা স্বীকার করেছেন যে, নির্দিষ্ট একটি দিনে কয়েকজন বাসিন্দাকে ১৩,০০০ টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিস্ফোরক সাফাই নেতাদের:
কাটমানি ফেরতের খবর চাউর হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। এই বিষয়ে অভিযুক্ত নেতা মনোজ অধিকারীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, “দলের নির্দেশ মেনেই কিছু অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে এখন বাসিন্দারা সেই টাকা ফেরত চাইছেন বলে আমরা তা ফিরিয়ে দিচ্ছি।” আরেক অভিযুক্ত নেতা উত্তম বর্মনও হুবহু একই যুক্তি খাড়া করেছেন।
নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতে সরাসরি দলের ওপর দায় চাপানোয় বর্তমানে এলাকায় তৃণমূলের অন্দরে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
