দলের সংকটে মমতার পাশে কুণাল ঘোষ, বিদ্রোহের আবহে দিলেন বেইমানি না করার বার্তা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্তিত্বের সংকটের মাঝেই এক অনন্য রাজনৈতিক অবস্থান নিলেন দলের মুখপাত্র তথা নবনির্বাচিত বিধায়ক কুণাল ঘোষ। একদিকে যখন দিল্লির বুকে দলের একঝাঁক লোকসভা সাংসদ ঘাসফুল শিবিরকে খাদের কিনারায় ঠেলে দেওয়ার ‘মাস্টারপ্ল্যান’ চূড়ান্ত করছেন, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ উল্টো স্রোতে হেঁটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ানোর বজ্রকঠিন বার্তা দিলেন তিনি। সোমবার রাজ্য তথা দেশজুড়ে চলা চরম রাজনৈতিক ডামাডোলের আবহেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কুণাল ঘোষ।
ক্ষোভ ভুলে নেত্রীর পাশে থাকার বার্তা
সারদা কাণ্ড থেকে শুরু করে দলের অন্দরের একাধিক দ্বন্দ্বে অতীতে বহুবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল কুণাল ঘোষকে। সেই ক্ষোভের কথা অকপটে স্বীকার করে এদিন তিনি নিজের ফেসবুকের দেওয়ালে লেখেন, দল তাঁর জীবনের কঠিন দিনে অকারণ অপবাদের বিপদে ফেলে পাশে দাঁড়ায়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও দলের বিপদে তিনি সঙ্গে থেকে দেখিয়ে দেবেন যে তাঁর রক্তে বেইমানি নেই। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিপদের দিনে দলের স্বার্থে ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকে শেষ পর্যন্ত লড়াই করার বার্তা দিয়ে তিনি আসলে দিল্লির ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদেরই কড়া জবাব দিলেন।
সংকটে কালীঘাটের স্বস্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোটে যেখানে রাজ্যজুড়ে শাসক দলের একের পর এক বড় বড় নেতা ও মন্ত্রীরা ধরাশায়ী হয়েছেন, সেখানে উত্তর কলকাতার বেলেঘাটা আসন থেকে ২৮ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে নিজের রাজনৈতিক দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। একদিকে যখন ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা, অন্যদিকে প্রবীণ সাংসদদের ‘বিদ্রোহী ব্লক’ গঠনের জেরে দল যখন চূড়ান্ত বিপর্যস্ত, তখন কুণাল ঘোষের মতো একজন পরীক্ষিত সৈনিকের এই অনড় অবস্থান কালীঘাটের শিবিরে বড়সড় মানসিক বল জোগাবে।
বাকিরা কে থাকল আর কে গেল, তা না ভেবে যাঁরা শেষ পর্যন্ত নেত্রীর সঙ্গে লড়বেন, তাঁদের সবার সহযোদ্ধা হিসেবে কুণাল ঘোষ যে ময়দানে আছেন, এই বার্তা তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
