‘দশ লাখ না দিলে পচা ডিমের ভয়!’ বিজেপির রাজ্য সভাপতির পা জড়িয়ে কাঁদলেন তৃণমূল নেতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ‘ডিম ছোড়া’র রাজনীতির আবহে এবার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল বাঁশবেড়িয়ায়। তোলাবাজির অভিযোগ এবং পচা ডিমের আতঙ্কে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের পা জড়িয়ে কাঁদতে দেখা গেল এক প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরকে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: অভিযুক্তের নাম কেশব দাস, যিনি বাঁশবেড়িয়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি কর্মী দেবজিৎ মুখার্জি ওরফে রানা তাঁর কাছে দশ লাখ টাকা দাবি করেছেন। কেশব দাসের দাবি, টাকা না দিলে তাঁকে পচা ডিম মারা হবে এবং কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ওই বিজেপি কর্মী।
বিজেপি দপ্তরে নাটকীয় মুহূর্ত: শমীক ভট্টাচার্য হুগলিতে দলীয় কোর কমিটির বৈঠক শেষে বেরোতেই কেশব দাস তাঁর সামনে হাজির হন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি শমীক ভট্টাচার্যের পা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করেন এবং পুরো বিষয়টি খুলে বলেন। আচমকা এই ঘটনায় উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা হতবাক হয়ে পড়েন। পরে তাঁরা ওই তৃণমূল নেতাকে সরিয়ে দেন। জানা গেছে, অভিযুক্ত বিজেপি কর্মী স্থানীয় বিধায়ক স্বরাজ ঘোষের ঘনিষ্ঠ।
কী বলছে বিজেপি নেতৃত্ব? পুরো বিষয়টি নিয়ে স্বরাজ ঘোষ বলেন, “তৃণমূল নেতাদের কথায় সহজে বিশ্বাস নেই। তবে যদি সত্যিই দলের কেউ টাকা চেয়ে থাকে এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে দলগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি আমার নজরে এসেছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। জেলা সভাপতির সঙ্গেও এই বিষয়ে কথা হয়েছে।”
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। একদিকে ডিম-রাজনীতির আতঙ্ক, অন্যদিকে তোলাবাজির অভিযোগে শাসকদলের নেতার বিজেপি কার্যালয়ে গিয়ে নালিশ— সব মিলিয়ে বাঁশবেড়িয়ার রাজনীতিতে এখন নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
